Bangladesh · 2026-11-08 19:53:59

পরিসংখ্যানের আড়ালে উন্নয়নের মিথ্যা চিত্র দেখাত আ.লীগ: তিতুমীর

পরিসংখ্যানের আড়ালে উন্নয়নের মিথ্যা চিত্র দেখাত আ.লীগ: তিতুমীর
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের বয়ান তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর দাবি, ওই সরকারের আমলে নতুন করে ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছিলেন। অথচ সরকারি পরিসংখ্যানে দেশের উন্নয়নের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হতো।

রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অডিটরিয়ামে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। অতীতে কীভাবে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা যায়, সেই হাতিয়ার হিসেবেও পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক করা জরুরি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যের অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল ১৩ হাজার। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের বড় ব্যবধান থেকেই অতীতে পরিসংখ্যান তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকার তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। এগুলো হলো—আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান তৈরি, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করা।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দুর্বলতা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, অতীতে এসব কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের অনেকে বাদ পড়েছেন। আবার যাঁদের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়, তাঁরাও বিভিন্ন সহায়তা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে।

এ ধরনের অনিয়ম কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিতুমীর। পাশাপাশি ওপেন ডাটা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি তথ্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ নীতিমালা তৈরি করা হবে। দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশি সংস্থার দেওয়া ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। অনুষ্ঠানে বিবিএসের মহাপরিচালক শামিমুল হক, পরিচালক কবির উদ্দিন আহম্মদসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও আইএমইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Source - www.bd24live.com ↗