কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও থাকার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এবার সেই দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন আমির হামজা। রাশেদের অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, আলেমদের সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
বগুড়ার একটি ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ‘ওরা আজ আলেমদের পেছনে লাগে। ওদের যদি আজ মোবাইল চেক করে দেখবেন, নাউজুবিল্লাহ। চরিত্র বলে কিছু আছে? চাটাচাটি করে এ পদটা যদি আজ না পেত, আমার মনে হয় রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে খাওয়া লাগতো। ওর তো রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ারও যোগ্যতা নেই। ওর কি যোগ্যতা আছে রাস্তা ঝাড়ু দিতে নিবে মানুষ? অথচ সে আজ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।’
রাশেদ খাঁনকে ‘বদদোয়া’ দিলেন আমির হামজা

রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, মানুষের পেছনে যারা লেগে থাকে, আল্লাহ যেন তাদের কথা বন্ধ করে দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গও টানেন।
আমির হামজা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিমান্ডে থাকাকালে তৎকালীন ডিসি ও এসপিরা তাঁকে মোবাইলে সাঈদীর কণ্ঠের মতো একটি অডিও শুনিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ওই অডিওতে এক নারীর সঙ্গে সাঈদীর কথোপকথন শোনানো হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, সে সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন অডিও তৈরি করা হয়েছিল এবং এ প্রযুক্তি ইসরায়েলের কাছ থেকে আনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এখন আবার শুরু করছে আলেমদের বিরুদ্ধে। আল্লামা সাঈদী বদ দোয়া করেছিলেন, আল্লাহ আমার এত বড় অসম্মান যারা করলো, তাদের তুমি জাতির সামনে ল্যাংটা করে দিও। আমিও মুসাফির অবস্থায় কোরআন সামনে নিয়ে আল্লাহর কসম, এই বগুড়ার মাটিতে বদ দোয়া দিয়ে গেলাম—আমাদের সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, একটি অক্ষরের সঙ্গেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
আমির হামজা আরও বলেন, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অতীতে চারশ পৃষ্ঠার অভিযোগ তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনার পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যারা সত্য কথা বলতে চান, তাঁদের থামিয়ে দিতে একই ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং এ কাজে কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমির হামজার কথোপকথনের অডিও প্রকাশের দাবি করেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত কিছু অডিও ও ভিডিও তাঁর হাতে এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করে সত্যতা পেয়েছেন তিনি।
পোস্টে কথিত কথোপকথনের কিছু অংশও প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। পাশাপাশি অডিওর লিংক কমেন্ট বক্সে যুক্ত করার কথা জানান। পরদিন ৬ নভেম্বর দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এ-সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ তাঁর হাতে এসেছে এবং বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়েও আগে থেকে জানা ছিল।
রাশেদ খাঁনের প্রকাশ করা কথিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে অনুতপ্ত হওয়ার কথা বলতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে শোনা যায়। ওই কথোপকথনে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, মানে কিছুই নেই। ওটুকু আমার শয়তানের ধোঁকায় হোক, নফসের জালে হোক, হয়ে যাওয়ার পরে আমি নিজেই অনুতপ্ত।’
Source - www.bd24live.com ↗