Bangladesh · 2026-11-09 01:13:38

সরকার গঠনের ডাক পাওয়া আইজেনকট কি নেতানিয়াহুকে সরাতে পারবেন

সরকার গঠনের ডাক পাওয়া আইজেনকট কি নেতানিয়াহুকে সরাতে পারবেন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটানোর সুযোগ পেয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট। সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তবে নির্বাচনে কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের পথে বাধা রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলোর সমর্থন।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের একটি স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।
দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকট বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বোঝেন, এমন যে কারও জন্য আমার দরজা খোলা এবং আমার হাত আন্তরিকভাবে প্রসারিত।’ তিনি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী কট্টর ডানপন্থী বেজালেল স্মোত্রিচের দলকেও তাঁর সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শর্ত হলো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেবল তিনিই থাকবেন।
নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতাদের নেতৃত্বাধীন দল রাআম ও মোর্চা জয়েন্ট লিস্টের ১৯টি আসন যোগ হলে দাঁড়ায় ৬৭। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। কিন্তু আরবদের সমর্থনে সরকার গঠনে আইজেনকটের জোটের শরিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে।
তাই এখন বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নিবিড় দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া, অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কিংবা নেতানিয়াহুকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার—প্রতিটি পথেই বাধা রয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে। তত দিন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ (ডানে) পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, জেরুজালেম, ০৮ নভেম্বরসংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংকট

গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হয়। কিন্তু ভোটের ফলাফলে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ছে দলগুলো। ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহু বিরতি দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে দেশ শাসন করেছেন। এবারের ভোটে তাঁর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন, যা একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ। ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী মিত্রদের নিয়ে তাঁর জোটের আসন ৫৩টি। তবে এই জোটের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে না। এতে সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন নেতানিয়াহু। ইউটিজের আসন রয়েছে ৭টি।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এই দলগুলোর মোট আসন ৬৭। তাই আইজেনকট সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে যে দলগুলো সুপারিশ করেছে, তাদের মোট আসন ৪৬।
আরব দলগুলোই বড় ভরসা

রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের নেতারা নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে আইজেনকটের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে বাইরে থেকেও তারা সমর্থন দিতে পারে। এতে সরকার গঠন ও তা টিকিয়ে রাখার সুযোগ পাবেন আইজেনকট।
কিন্তু আইজেনকটের জোটের ডানপন্থী দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যান আরবদের সমর্থননির্ভর সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। আইজেনকটও নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোকে সরকারে না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তাঁর জোটের মধ্যবামপন্থী দ্য ডেমোক্র্যাটস অবশ্য প্রকাশ্যে আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিকল্প পথেও বাধা

নেতানিয়াহুর জোট থেকে নির্বাচন করা অতি রক্ষণশীল দুই ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের মোট আসন ১৩টি। তাদের সমর্থন পেলে আইজেনকটের জোটের আসন হবে ঠিক ৬১। কিন্তু বড় বিরোধ ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি থেকে ছাড় দেওয়া নিয়ে।
আইজেনকট ও লিবারম্যান এই ছাড়ের সমালোচক। তবে গত শুক্রবার লিবারম্যান সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সমর্থকদের বলেছেন, সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া যায় না। আইজেনকটও সামরিক অন্তর্ভুক্তির বিকল্প হিসেবে বেসামরিক জাতীয় সেবার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়, এসব সম্ভাবনা ব্যর্থ হলে আইজেনকটের সামনে সমীকরণ থাকবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা। কিন্তু নেতানিয়াহুকে সরানোই ছিল আইজেনকটের জোটের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। ফলে এই সম্ভাবনাও আপাতত ক্ষীণ।
সময় কত, ব্যর্থ হলে কী

নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার কথা। সরকার গঠনে আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রেসিডেন্ট চাইলে আরও ১৪ দিন দিতে পারেন। জোট সরকারকে নেসেটে আস্থা ভোটেও পাস করতে হবে।
আইজেনকট ব্যর্থ হলে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। রয়টার্সের হিসাবে, সম্ভবত সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু। দ্বিতীয় প্রার্থী পাবেন ২৮ দিন। এই সময় বাড়ানো যায় না।
দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে ২১ দিনের মধ্যে অন্তত ৬১ সদস্য লিখিতভাবে একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তিনি সরকার গড়তে ১৪ দিন সময় পাবেন।
এই প্রক্রিয়াতেও সরকার না হলে পার্লামেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে। তত দিন বিদায়ী সরকার দায়িত্ব পালন করবে।
ইসরায়েলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচবার নির্বাচন হয়েছে। এবার নতুন ভোট এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। তাই নেতানিয়াহুকে সরানোর অভিন্ন লক্ষ্য শরিকদের বিরোধ মেটাতে পারে কি না, আইজেনকটের সাফল্য অনেকটা সেটার ওপর নির্ভর করছে।
সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়ে আইজেনকট বললেন, সবার জন্য দরজা খোলা

Source - www.prothomalo.com ↗