পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৯ দশমিক ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির পাইলিং কাজ ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
অথচ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় ইতিমধ্যে পার হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। পাশাপাশি পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
নতুন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে সেতুর কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বক্তব্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। তবে কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাপিতখালী সেতু নির্মাণে ধীরগতি, ৪০ শতাংশ বিল পরিশোধের দাবি সওজের

সওজের পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ-স্বরূপকাঠি থেকে পিরোজপুর সড়কের নাপিতখালী এলাকার খালের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ মার্চ পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স। ১৭ মাসের প্রকল্প মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৭ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশে আরেকটি সেতুর কাজ শুরু হলেও দু-তিন মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধীরগতিতে কাজ চললে সেতুর নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেহেদী সরোয়ার বলেন, সড়কপথে উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কাজ করার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণকাজের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয়ে গৌতম সাহা বলেন, ‘খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল।
আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে। এরই মধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য খালে মোট ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো সেতুর কাজ সম্পন্ন হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। ’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের পরিচালক মো. মাসুদ খান বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই।
ফলে স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে জমির ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। তবে ৩০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ‘খালে পানির বেশি স্রোতের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।
২০২৭ সালের ৭ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
The post নাপিতখালী সেতু নির্মাণে ধীরগতি, ৪০ শতাংশ বিল পরিশোধের দাবি সওজের appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.
Source - bangladeshdiplomat.com ↗