‘আল্লাহর রহমতে আমার সামনে বড় গলায় কথা বলার মতো বাংলাদেশে একমাত্র আমার জামায়াতের আমির ছাড়া আর কেউ নেই’—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কারামুক্তির পর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নিজেকে গ্রেপ্তারের আগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলেছিলেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো ডিবি যাব না, আপনার কথায় কেন যাব?’
পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, গ্রেপ্তার করেন, সমস্যা নেই। তবে গ্রেপ্তার করতে হলে ওয়ারেন্ট দেখান। আমার সামনে গরম আওয়াজ করার মতো বাংলাদেশে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেনি। বড় বড় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সামনেও গরম আওয়াজ দেখিয়েছি। আপনি তো আমার কাছে বাচ্চা। কাজেই আমার সামনে বড় গলায় কথা বলবেন না।’
‘জামায়াতের আমির ছাড়া বড় গলায় কথা বলার মতো কেউ নেই’

এরপরই তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমার সামনে বড় গলায় কথা বলার মতো বাংলাদেশে একমাত্র আমার জামায়াতের আমির ছাড়া আর কেউ নেই।’
আখতারুজ্জামান জানান, মাগরিবের আজানের সময় নামাজ পড়তে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেন। পরে তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করে পুরো ঘটনা জানান। তখন আমির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘চিন্তা কইরেন না, আমি যাচ্ছি, অসুবিধা নেই।’
তিনি আরও জানান, পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি হাতকড়া পরানো অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানোর কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে গাড়িতে উঠতে রাজি হন। তবে গাড়িতে কোথায় বসবেন, তা নিয়েও পুলিশের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে উপস্থিত লোকজনকে সাক্ষী রেখে হাত তুলে জানান, তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আখতারুজ্জামানের ভাষ্য, প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে রাখা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তার আপত্তি রিমান্ডে নেওয়া এবং রিমান্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আমার কোনো কথা নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাকে রিমান্ডে নিলা কেন? এখানে কী হয়েছে যে তুমি রিমান্ডে নিলা? রিমান্ডে নিয়ে তুমি আমার চোখ বাঁধলা কেন? আর চোখ বেঁধে তুমি আমাকে জামায়াতের সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন কেন করলা?’
জিজ্ঞাসাবাদের সময় জামায়াত সম্পর্কে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘তুমি পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যক্কারজনক সাহস কোথায় পেলে? একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে চলে, নেতৃত্ব কীভাবে চলে, কী করে আর কী করে না—সেই প্রশ্ন করার অধিকার বাংলাদেশের পুলিশকে কে দিয়েছে? আমি বিনীতভাবে আমির সাহেবের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম।’
Source - www.bd24live.com ↗