Bangladesh · 2026-11-03 17:47:32

আক্কেলপুরে কৃষি কর্মকর্তার নম্বর ক্লোন করে সার ডিলারদের কাছে টাকা দাবি

আক্কেলপুরে কৃষি কর্মকর্তার নম্বর ক্লোন করে সার ডিলারদের কাছে টাকা দাবি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে সার ডিলারদের কাছে টাকা দাবি করছে একটি প্রতারক চক্র। কৃষি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে কখনো গাড়ি নষ্ট হওয়ার অজুহাতে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে, আবার কখনো ইউরিيا সার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ট্রাকে করে সার নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় সার ডিলার ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন সার ডিলারকে ফোন দিচ্ছে। ফোনে নিজেকে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলা হচ্ছে, আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলছি।

অফিসে আছি, আমার গাড়ি নষ্ট হয়েছে। আমাকে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। একইভাবে উপজেলার এন. ইসলাম সন্স প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিসিআইসি ডিলার ও বিসিআইসি ডিলার উপজেলার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলকে ফোন করে বলা হয়, ‘আমি কৃষি কর্মকর্তা। আপনাকে ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার দেব। আপনি জয়পুরহাটে ট্রাক পাঠিয়ে দেন। বাজারদর অনুযায়ী টাকা দেবেন।

’ তখন ওই ডিলার ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি কৃষি অফিসের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন কৃষি কর্মকর্তা জানান, অফিস থেকে এ ধরনের কোনো ফোন করা হয়নি। এদিকে প্রতারণার ফাঁদ তৈরিতে কৃষি অফিসের কর্মকর্তার পরিচয় ও ডিলারদের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে। আজ সকালে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা একেএম আক্তারুজ্জামানকে নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপজেলার সার ডিলারদের তথ্য চাওয়া হয়।

পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনে করে ডিলারদের নাম ও ঠিকানা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন। একেএম আক্তারুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সকাল ১১টার পর ওই নম্বর থেকে ফোন করে আমার নাম ও পদবি নিশ্চিত করে আক্কেলপুর উপজেলায় কতজন সার ডিলার রয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হয়। আমি কাগজপত্র দেখে ১২ জনের কথা জানাই। পরে তাদের নাম-ঠিকানা চাওয়া হলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিই।

ফোন কেটে নম্বরটি পরীক্ষা করে দেখি, সেখানে ভুয়া ফ্রড ম্যাজিস্ট্রেট দিনাজপুর লেখা রয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহাকে জানাই। এরপর থেকে ওই চক্রটি সার ডিলারদের ফোন করে টাকা চাইতে শুরু করে। বিসিআইসি সার ডিলার বজলুর রশিদ মন্টু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমার মুঠোফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা পরিচয় দেন।

তিনি বলেন, অফিসে আছেন, গাড়ি নষ্ট হয়েছে, ২০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। বিষয়টি সন্দেহ হলে কৃষি অফিসে ফোন করে জানতে পারি, এমন কোনো ফোন অফিস থেকে করা হয়নি। এন. ইসলাম সন্স প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, বিসিআইসি সার ডিলার ও উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল বলেন, আমাকে ফোন করে নিজেকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা পরিচয় দিয়ে বলা হয়, আপনাকে ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার দেওয়া হবে।

আপনি জয়পুরহাটে ট্রাক পাঠিয়ে দেন, বাজারদর অনুযায়ী টাকা দেবেন। তখন আমি মুরগির ওষুধ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকায় পরে ফোন দেব বলে কলটি কেটে দিই। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কৃষি অফিসের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করি। তখন কৃষি কর্মকর্তা জানান, এমন কোনো ফোন দেওয়া হয়নি। তখন বুঝতে পারি কৃষি কর্মকর্তার ফোন ক্লোন হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুটি ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসব নম্বর থেকে ফোন করে কেউ টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে যাচাই না করে কোনো অর্থ বা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমার অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা একেএম আক্তারুজ্জামানের কাছ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে সার ডিলারদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এরপর আমার পরিচয় ও ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করে ডিলারদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

The post আক্কেলপুরে কৃষি কর্মকর্তার নম্বর ক্লোন করে সার ডিলারদের কাছে টাকা দাবি appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.

Source - bangladeshdiplomat.com ↗