কক্সবাজার সদরের বিকাশের দোকানি সাঈদকে কুপিয়ে '২২ লাখ' টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে যার নাম আলোচনায় এসেছিল, এবার সেই ছাত্রদল নেতা খোরশেদের বাড়িতেই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল উৎশৃঙ্খল যুবক বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা মমতাজ বেগম।
তার দাবি, ভাঙচুর করা হয়েছে দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র। লুট করা হয়েছে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা। হামলায় ওই নারী ও তার দেবর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী এই নারী জানান, গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরুলিয়া সুতার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মমতাজ বেগমের ভাষ্য, হামলাকারীরা দা, কিরিচ, বন্দুক, ছোরা, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। দরজা-জানালা কেটে এবং ঘেরাবেড়া ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও মূল্যবান তৈজসপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন শাহীন কায়সার হাবিব, জিয়াউর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মারুফ, লোকমান হাকিম, শামশুল আলম, মুনতাছির বাদল ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জন।
মমতাজ বেগমের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকেই বাদীর কলেজপড়ুয়া ছেলে, ঝিলংজা ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার ইসলাম খোরশেদকে খুঁজতে থাকে। ছেলে বাড়িতে নেই জানালে এবং মমতাজ বেগম ও তার দেবর মো. হোসেন প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এসময় হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে মমতাজ বেগমের পিঠ ও কোমরে আঘাত করেন। এতে দুজনই আহত হন। এ সময় তাদের পুরো পরিবার আতংকিত হয়ে পড়ে।
এরপর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরের আলমারিতে রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। এসময় পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটে বিপুল টাকার ক্ষতির অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে আহত দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর মামলা না করার জন্য তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতাজ বেগম।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাঈদকে যারা হামলা করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু কক্সবাজার থেকে বহিরাগত লোকজনসহ মিছিল সহকারে অনেক মানুষ এসে একটি পরিবারের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো খুবই অমানবিক। কোনো একটি ঘটনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা, লুটপাট কিংবা ভাঙচুর চালালে সেটিও জঘন্যতম অপরাধ। তাদেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
খোরশেদের পরিবারসহ অনেকের মতে, সাঈদের দোকানে এত লেনদেন তারা কখনো দেখেননি। তার কাছে বিকাশের ২২ লাখ টাকা ছিল বলে যে কথা প্রচার হয়েছে, সেটিও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে অনেকে দাবি করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খরুলিয়ায় যত বিকাশ ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টাকা লেনদেনের মূল এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। অধিকাংশ বিকাশ ব্যবসায়ী আলোচিত মাদক কারবারিদের টাকা রাখার ভল্টে পরিণত হয়েছেন। অনেকের দাবি, বিকাশ এজেন্টের আড়ালে তারা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, খরুলিয়া বাজারে ভালো কোনো দোকান কিংবা বড় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি ভালো মানের একটি চায়ের দোকান পর্যন্ত নেই। অথচ এই বাজারের এত এত বিকাশের দোকানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতে দেখা যায়। প্রায় সময় ওই দোকানগুলোর সামনে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিদের ভিড় জমাতে এবং লাখ লাখ টাকা লেনদেন করতে দেখা যায়।
তাদের ভাষ্য, তারা মূলত বিকাশকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে কালো টাকার কারবার করছেন। এ অবস্থায় সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে উত্তেজিত জনতা হামলা করেছে বলে শুনেছি। এখন তাদের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করলে বিষয়টি অপরাধীর পক্ষে নেওয়া হয়েছে, এমনও মনে হতে পারে। তারপরও বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদরের খরুলিয়া মুন্সিপাড়া এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক সাঈদের পথরোধ করে তাকে কুপিয়ে ২২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে তার স্বজনেরা অভিযোগ করেছিলেন।
তখন স্বজনেরা দাবি করেছিলেন, হামলাকারীদের মধ্যে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদকে চিনতে পেরেছেন সাঈদ। তার নেতৃত্বেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে আহত সাঈদ স্বজনদের জানিয়েছিলেন।
Source - www.bd24live.com ↗