যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে ফেলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন ভোটারদের স্পষ্ট অনাস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রিপাবলিকানদের একাধিক শক্তিশালী আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা টেক্সাস, কানসাস ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনাতেও সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতেও আসন পুনরুদ্ধার করেছেন তাঁরা।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর সিনেট নির্বাচনে জয়কে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যটিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।
দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ। একইভাবে মেইন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী জোটে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও লাতিনো ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রিপাবলিকানদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ভোটারদের অসন্তোষের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ বড় ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্পের বাকি দুই বছর কঠিন হওয়ার আশঙ্কা
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা এখন তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি করতে পারবেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, নতুন ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করা হবে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও সম্ভাব্য তদন্তের আওতায় আসতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের বিষয়টিও আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে না।
নির্বাচনে পরাজয়ের দায় এড়ানোর চেষ্টা ট্রাম্পের
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পরপরই দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, নির্বাচনে তাঁর নাম ছিল না।
অথচ নির্বাচনের আগে প্রায় পুরো সময়জুড়েই ভোটারদের কাছে নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস থেকে আসা বিভিন্ন বিল ভেটো দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এ বার্তা দিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভেটো’ লেখা একটি লাল রঙের ক্যাপের ছবিও প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমার এই ফলাফলকে সিনেটের নির্বাচনী মানচিত্রে প্রজন্মান্তরের পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, মার্কিন জনগণ বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে তাঁর সরকার।
Source - www.bd24live.com ↗