Bangladesh · 2026-11-04 15:46:49

জাহানারার অভিযোগে তদন্তে সত্যতা, তবু প্রকাশ হবে না ৭০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট

জাহানারার অভিযোগে তদন্তে সত্যতা, তবু প্রকাশ হবে না ৭০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের সাফল্যের আড়ালে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে ৭০ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বিসিবি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং বিসিবির নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনটি গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্মান সুরক্ষার স্বার্থেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে না।

জাহানারা আলমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে জাহানারার অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর আচরণের সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুল ইসলামকে বোর্ডের সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনজুরুল হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করেন। পরে বিসিবির পক্ষ থেকে মূল তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে আদালত তাঁর করা দুটি রিটই খারিজ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ না করায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তবে নীতিমালায় যৌন হয়রানির তদন্তসংক্রান্ত নথি সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখার বিধান রয়েছে। বিচারিক প্রয়োজনে প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আদালতকে তা দেওয়া হবে। তবে বিসিবি নিজ উদ্যোগে প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করবে না।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের আগস্টে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক ‘পশ’ (POSH—Prevention of Sexual Harassment) গাইডলাইন অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে বিসিবির ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটার এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ জানানোর জন্য পৃথক অভিযোগ সেল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধের বিষয় থাকলে ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নিজ উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ কিংবা মামলা করতে চাইলে বিসিবি তাকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও আইনি সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন বোর্ডের এই আইনজীবী।

নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অভিযোগ জানানোর কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ, জাহানারা আলমের অভিযোগ এবং পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Source - www.bd24live.com ↗