দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীর। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
সম্মেলনের বিভিন্ন তথ্য জানাতে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ।’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই-এর এই যৌথ প্রয়াস দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় এআই বিজনেস সামিট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা পিলারের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা হচ্ছে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো, গবেষণালব্ধ জ্ঞান কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সরাসরি বাজারের উপযোগী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও বাজারের সঙ্গে গবেষকদের সুদৃঢ় সেতুবন্ধ তৈরির পাশাপাশি এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, স্পেস রিসার্চ ও ব্ল-ইকোনমি নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করা হচ্ছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগ প্রভৃতি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সহায়তা প্রদান, শিক্ষা কার্যক্রমের যুগোপযোগীকরণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
ব্রেন স্টেশন ২৩ পিএলসির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু নতুন প্রযুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি ব্যবসা পরিচালনা, উৎপাদনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেসব ক্ষেত্রে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ মানবসম্পদ, তথ্যের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে এআই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের প্রয়োগ, সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, গবেষণার বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং এআইভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তৃতীয় অধিবেশনে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে এআই প্রযুক্তি ও এআই এজেন্টের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে প্রযুক্তি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা তাঁদের এআইভিত্তিক উদ্ভাবন, পণ্য ও সমাধান তুলে ধরবেন। স্বাস্থ্যসেবা, তৈরি পোশাক, উৎপাদনশিল্প, ব্যাংকিং এবং অন্যান্য খাতে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগও প্রদর্শন করা হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা ও যোগাযোগ প্রভৃতি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সহায়তা প্রদান, শিক্ষা কার্যক্রমের যুগোপযোগীকরণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
ব্রেন স্টেশন ২৩ পিএলসির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু নতুন প্রযুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি ব্যবসা পরিচালনা, উৎপাদনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেসব ক্ষেত্রে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ মানবসম্পদ, তথ্যের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে এআই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের প্রয়োগ, সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, গবেষণার বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং এআইভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তৃতীয় অধিবেশনে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে এআই প্রযুক্তি ও এআই এজেন্টের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে প্রযুক্তি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা তাঁদের এআইভিত্তিক উদ্ভাবন, পণ্য ও সমাধান তুলে ধরবেন। স্বাস্থ্যসেবা, তৈরি পোশাক, উৎপাদনশিল্প, ব্যাংকিং এবং অন্যান্য খাতে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগও প্রদর্শন করা হবে।
Source - www.prothomalo.com ↗