রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা গুলশান-২ গোলচত্বর। এর মাত্র ২০০ গজের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়, আর ৪০০ গজের মধ্যেই গুলশান থানা। প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠানের এত কাছে, অথচ রাতের আঁধারে গাছ কেটে স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ বিলবোর্ড। চেরি আর্ট পাবলিসিটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে এই অভিযোগ। যার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশান-২ থেকে বনানীগামী সড়কের মোড়ের পাশে থাকা একটি গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি বাণিজ্যিক বিলবোর্ড।
গাছ কেটে বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, এসব বিষয় সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ দেখভাল করে।
গুলশানে গাছ কাটার অভিযোগ, বিলবোর্ডের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

পরে ডিএনসিসির উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিটি করপোরেশন।
অন্যদিকে, গাছ কাটার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেরি আর্ট পাবলিসিটির দায়িত্বশীল গোলাম সরওয়ার কাইয়ুম। তিনি দাবি করেন, সব নিয়ম মেনেই তাঁদের প্রতিষ্ঠান বিলবোর্ডটি স্থাপন করেছে।
এ বিষয়ে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অপরাধের মধ্যেই পড়ে। সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার উচিত গাছ রক্ষা করা এবং নগরে সবুজায়ন বাড়ানো। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের পরিবেশ ও ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা বিজ্ঞাপনের জন্য গাছের ক্ষতি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
Source - www.bd24live.com ↗