দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও দুদকের কমিশনাররাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাধারণ রোগীদের নানাবিধ অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন–দুদকের কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারা।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহিঃবিভাগ পরিদর্শনকালে দুদক কর্মকর্তারা রোগীদের শয্যার পাশে যান এবং তাদের চিকিৎসা প্রাপ্তির সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় রোগীরা দালাল চক্রের হয়রানিসহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন দুদক চেয়ারম্যান

দুদক চেয়ারম্যান রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের অনিয়ম বন্ধের তাগিদ দেন।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেস কনফারেন্স করেন দুদকের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান। এতে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান জানান, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম রুখতে দুদক তৎপর রয়েছে।
দুদকের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালে কোনোরকম ব্যবস্থা নেই এবং রোগীরা অনেক সুবিধাই পাচ্ছে না। একদম জরাজীর্ণ পরিবেশ দেখলাম হাসপাতালে এসে। সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রায় একই অবস্থা। যদি ঢাকায় এইরকম অবস্থা, সারাদেশে তো আরও খারাপ অবস্থা। মেডিকেল থেকে রোগীকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সাথে ডাক্তারদের বড় একটা অংশ জড়িত আছে কিনা– এটাও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’
প্রেস কনফারেন্সে ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে ঠিকমতো হাসপাতালে ওষুধ পাওয়া যেত না। এখন বেশিরভাগ ওষুধ আমরা পাচ্ছি এবং অনেকটা ইমপ্রুভ হয়েছে আগের থেকে। তবে পুরোপুরি ইমপ্রুভ করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
ঢামেক পরিচালক আরও বলেন, ‘আপনারা দেখছেন এখানে দুদক চেয়ারম্যান এবং দুজন কমিশনার আছেন। তাদের উপস্থিতিতেই আপনারা অব্যবস্থাপনাটা দেখলেন, রোগীদের অভিযোগ শুনলেন। এইটা কিন্তু চিরাচরিতভাবে চলে আসছে।’
চাঁদপুরের মতলব নালুয়া আশ্রম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘এখানে ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক দালাল আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আমার স্বামী একজন রিকশাচালক।’
প্রেস কনফারেন্স শেষ করে দুদক চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
The post ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন দুদক চেয়ারম্যান appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.
Source - bangladeshdiplomat.com ↗