এক মাসের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম দুই দফা বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলার সুযোগ নেই। দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০–৬০০ টাকা বেশি দামে ভোক্তাদের এলপিজি কিনতে হচ্ছে। নতুন করে দাম বাড়ানোর পরও গ্রাহকেরা নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছেন না।
প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সোমবার ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর একলাফে দাম বাড়ানো হয়েছিল ২১২ টাকা। এর অর্থ এক মাসের মধ্যে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৪৩৫ টাকা। দেশে বর্তমানে এলপিজির গ্রাহক প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। বাকিটা ব্যবহৃত হয় মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। বাস্তবতা হলো, শুধু শহর নয়, এখন গ্রামের অনেক পরিবারই রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। এলপিজির দাম এভাবে লাগামহীন হয়ে গেলে নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সবার ওপরেই সীমাহীন চাপ তৈরি হয়।
সরকারকে আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে

বিইআরসি যে প্রক্রিয়ায় এবার এলপিজির দাম বাড়িয়েছে, সেটাকে মোটেই যৌক্তিক ও স্বচ্ছ বলা যাবে না। কেননা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা সবার স্বার্থ দেখা হয়েছে, শুধু ভোক্তার স্বার্থকেই উপেক্ষা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিইআরসিতে দাম নির্ধারণে শুনানি হয়। রোববারের মধ্যে শুনানি–পরবর্তী মতামত দিতে বলা হয়। সোমবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়। প্রশ্ন হলো, শুনানির পর এত দ্রুত কীভাবে সবার মতামত মূল্যায়ন করল বিইআরসি। আমরা মনে করি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা যথার্থই বলেছেন, বিইআরসি ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা চিন্তা করেছে, ভোক্তার ওপর মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত বিবেচনায় নেয়নি।
দেশে চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এলপিজির লাগামহীন দাম মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি ও আয় না বাড়ায় বেশির ভাগ পরিবারের প্রকৃত আয় কমে গেছে। উদ্বেগজনক হারে দারিদ্র্য বেড়ে চলেছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে করে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানির সঙ্গে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। কিন্তু ভারত–পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় এলপিজির দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই কম। এর অর্থ সরকারের এলপিজি নীতির গোড়ায় বড় গলদ রয়েছে।
দেশে এলপিজির মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ আসে সরকারি খাত থেকে। বাকি ৯৯ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। দেখা যাচ্ছে যে সাতটি বড় কোম্পানি ৮৬ শতাংশ এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই একচেটিয়া ব্যবস্থায় এলপিজির বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বিইআরসি দাম বাড়িয়েছে। আমরা মনে করি, এলপিজির বাজার পুরোটা বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং এই খাতে যে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি একচেটিয়াত্ব তৈরি করেছে, তার ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা।
এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগও বাড়ছে না, অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে হলে সরকারকে অবশ্যই এলপিজির বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা মনে করি, বিপিসির মাধ্যমে এলপিজি আমদানি করা বাজারে ভারসাম্য আনাটাই সরকারের একমাত্র পথ।
দেশে চার বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এলপিজির লাগামহীন দাম মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি ও আয় না বাড়ায় বেশির ভাগ পরিবারের প্রকৃত আয় কমে গেছে। উদ্বেগজনক হারে দারিদ্র্য বেড়ে চলেছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে করে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানির সঙ্গে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। কিন্তু ভারত–পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় এলপিজির দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই কম। এর অর্থ সরকারের এলপিজি নীতির গোড়ায় বড় গলদ রয়েছে।
দেশে এলপিজির মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ আসে সরকারি খাত থেকে। বাকি ৯৯ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। দেখা যাচ্ছে যে সাতটি বড় কোম্পানি ৮৬ শতাংশ এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই একচেটিয়া ব্যবস্থায় এলপিজির বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বিইআরসি দাম বাড়িয়েছে। আমরা মনে করি, এলপিজির বাজার পুরোটা বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং এই খাতে যে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি একচেটিয়াত্ব তৈরি করেছে, তার ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা।
এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগও বাড়ছে না, অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে হলে সরকারকে অবশ্যই এলপিজির বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা মনে করি, বিপিসির মাধ্যমে এলপিজি আমদানি করা বাজারে ভারসাম্য আনাটাই সরকারের একমাত্র পথ।
Source - www.prothomalo.com ↗