Bangladesh · 2026-11-06 13:03:47

নিউইয়র্কের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হতে যাচ্ছেন আরেক ভারতীয় মার্কিন

নিউইয়র্কের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হতে যাচ্ছেন আরেক ভারতীয় মার্কিন
নিউইয়র্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হতে যাচ্ছেন আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন বাসকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রামন। নির্বাচনে পরাজয় মেনে বাস গতকাল বৃহস্পতিবার রামনকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এর মধ্য দিয়ে দুই দশক পর লস অ্যাঞ্জেলেসে কোনো ক্ষমতাসীন মেয়র পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হলেন।
২০০৫ সালে তৎকালীন মেয়র জেমস হ্যানের পর আর কোনো ক্ষমতাসীন মেয়রকে নির্বাচনে হারতে হয়নি।
Los Angeles, I am deeply honored to be your next mayor.

I just spoke with Mayor Bass and expressed my deepest gratitude for her leadership and decades of service. Los Angeles would not be the city it is today without her.

I love this city. I believe in its people. The work ahead will be hard, and change will take time. And together, we are going to build a future as extraordinary as the city we call home.

Thank you, LA. Let’s get to work.
— Nithya Raman (@nithyavraman) November 5, 2026
নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁরা মা–বাবা দুজনই ভারতীয়। অবশ্য তাঁর জন্ম উগান্ডায় এবং পরে সাত বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।
ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত নিত্যা রামন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হতে যাচ্ছেন। নগর–পরিকল্পনাবিদ ও সিটি কাউন্সিলের সদস্য রামন আবাসন–সংকট, গৃহহীন মানুষের সমস্যা, গণপরিবহন, নগরসেবা ও পুলিশ বিভাগের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের ব্যবধান ৪৭ হাজারের বেশি
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার/কাউন্টি ক্লার্ক দপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, নিত্যা রামন পেয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৭২ ভোট, যা মোট ভোটের ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ। কারেন বাস পেয়েছেন ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫১৯ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪৭ হাজার ২৫৩।
বর্তমান মেয়র কারেন বাস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি কাউন্সিল সদস্য নিত্যা রামনকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতে ফোন করেছি।’ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাস আরও বলেন, গত চার বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর জন্য সম্মানের ছিল। মহামারির পর শহরের গৃহহীনতা, নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন ও দাবানলের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসন কাজ করেছে।
নিত্যা রামনও বাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসকে এমন একটি শহরে পরিণত করতে চান, যেখানে সাধারণ মানুষ বাস করতে পারবেন, কাজের জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ পাবেন।
ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন নিত্যা রামন। ৩ নভেম্বর ২০২৬, সিলভারলেক কমিউনিটি চার্চকেরালা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, তারপর নগর রাজনীতি
নিত্যা রামনের জন্ম ১৯৮১ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যে। ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা রামন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাঁর জীবনী অনুযায়ী, রামন একজন নগর–পরিকল্পনাবিদ ও অভিবাসী। সিটি কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সিলভার লেক নেবারহুড কাউন্সিলের গৃহহীনতাবিষয়ক কমিটির সহসভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ প্রতিষ্ঠায় যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে রামন নগর প্রশাসনের সেবা ও গৃহহীন মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে বৈষম্য দেখতে পান। তাঁর উপলব্ধি ছিল, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন নগর প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে।
সিটি কাউন্সিল থেকে মেয়র পদে
২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৎকালীন কাউন্সিল সদস্য ডেভিড রিউকে হারান রামন। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সিটি কাউন্সিলের প্রথম দক্ষিণ এশীয় সদস্য ও প্রথম এশীয়-আমেরিকান নারী সদস্য। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন।
চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের আওতায় সিলভার লেক, লস ফেলিজ, হলিউড হিলস, স্টুডিও সিটি, শেরম্যান ওকস ও এনসিনোর মতো এলাকা রয়েছে। কাউন্সিল সদস্য হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল গৃহহীন মানুষের জন্য কার্যকর সেবা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ, ভাড়াটেদের অধিকার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নগর উদ্যোগ।
সিটি কাউন্সিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, সামাজিক সেবা ও প্রতিবেশী এলাকাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গৃহহীনতা ও স্বাস্থ্য এবং জননিরাপত্তা-বিষয়ক কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।
মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি রামনের খুব আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী দৌড়ে নামার আগে তিনি কারেন বাসকে সমর্থন করেছিলেন। পরে মেয়র প্রশাসনের কাজ, বিশেষ করে গৃহহীন সমস্যা মোকাবিলা, নগরসেবা ও দাবানল-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে রামনের শেষ মুহূর্তে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পটভূমি তুলে ধরা হয়।
আবাসন ও গৃহহীন সমস্যা মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি
লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্যতম বড় সমস্যা আবাসনের উচ্চ ব্যয়। বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গৃহহীন মানুষের তাঁবু ও অস্থায়ী বসতি দেখা যায়। এই দুই সংকটকে রামন তাঁর নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রীয় বিষয় করেছিলেন।
রামনের নির্বাচনী ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিকল্পনায় নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, অনুমোদনপ্রক্রিয়া দ্রুত করা ও ভাড়াটেদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শহরের বিদ্যমান জোনিং বা ভূমি ব্যবহারের নিয়ম মেনে যেসব আবাসন প্রকল্প করা সম্ভব, সেগুলোর অনুমোদন ৬০ দিনের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শুধু বড় আবাসন প্রকল্প নয়, একক পরিবারের বসবাসের জন্য নির্ধারিত কিছু এলাকায়ও ডুপ্লেক্স, ট্রিপ্লেক্স ও চার ইউনিটের ছোট আবাসন নির্মাণের সুযোগ বৃদ্ধির পক্ষে নিত্যা রামন। বিশেষ করে গণপরিবহনের কেন্দ্র ও রেলস্টেশনের আশপাশে বেশি মানুষের বসবাসের উপযোগী আবাসন গড়ে তুলতে চান তিনি। তাঁর যুক্তি, কর্মস্থল ও গণপরিবহনের কাছাকাছি বাড়ি তৈরি হলে যাতায়াতের খরচ ও সময় কমবে ও আবাসনের সরবরাহ বাড়বে।
গৃহহীন সমস্যার মোকাবিলায় রামন বর্তমান মেয়র কারেন বাসের ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন। বাস প্রশাসনের এই কর্মসূচিতে গৃহহীন মানুষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে হোটেল ও মোটেলে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
রামনের মতে, এ ধরনের অস্থায়ী ব্যবস্থা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তিনি স্বল্পমেয়াদি ভাড়া-সহায়তা বা আবাসন ভাউচারের মতো বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেছেন।
২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের আগে সড়কের পাশে বসবাসকারী গৃহহীন মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রামন। তাঁর নির্বাচনী বক্তব্যে প্রথম মেয়াদের চার বছরের মধ্যে গৃহহীন সমস্যার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি শহরের গৃহহীন সমস্যা খাতে ব্যয় হওয়া প্রতিটি ডলার নিরীক্ষার সুযোগ দিতে চান এবং গৃহহীনদের অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে ভাড়া-সহায়তার মতো বিকল্প ব্যবস্থার পক্ষে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে নিত্যা রামনপুলিশ বিভাগ ও অভিবাসন নীতি
নির্বাচনী প্রচারে আরেকটি বড় বিতর্কের বিষয় ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ-এলএপিডি। রামন বর্তমান পুলিশপ্রধান জিম ম্যাকডোনেলকে সরিয়ে নতুন পুলিশপ্রধান নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
র‍ামনের অভিযোগ, অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ বিভাগের ভূমিকা এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে নগরবাসীর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ নীতির আওতায় নগর সংস্থাগুলোর কাছে থাকা নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা শনাক্ত করতে পারে—এমন তথ্য গোপন রাখার বিধান রয়েছে।
রামন বলেছেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পুলিশ বিভাগ এই নীতি কতটা অনুসরণ করছে, তা নিরীক্ষার উদ্যোগ নেবেন।
পুলিশপ্রধান পরিবর্তনের সময় নিয়ে রামনের বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল। কোনো কোনো সাক্ষাৎকারে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্তমান পুলিশপ্রধানকে রাখার কথা বলেছেন, আবার অন্য জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেছেন। ফলে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত কী হয়, তা নজরে থাকবে।
বাসের পরাজয়ের পেছনে কী
কারেন বাস ২০২২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য বাসের বিরুদ্ধে এবার রামনের চ্যালেঞ্জ ছিল মূলত নগর প্রশাসনের কার্যকারিতা, গৃহহীন সমস্যা, আবাসন ও জনসেবার মান নিয়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্যালিসেডস দাবানল মেয়র বাসের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। দাবানল শুরুর সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। আগুনের পর জরুরি সাড়া, আগুন মোকাবিলার প্রস্তুতি ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তা নিয়ে তাঁর প্রশাসনের সমালোচনা হয়। দাবানল-পরবর্তী পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রচারেও বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।
বাসের পক্ষে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতারা। পুলিশ ইউনিয়ন ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীরও সমর্থন ছিল তাঁর পক্ষে।
অন্যদিকে রামন সমর্থন পেয়েছেন প্রগতিশীল সংগঠন, তরুণ ভোটার, ভাড়াটে ও আবাসন সংস্কারপন্থীদের কাছ থেকে। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের ১০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে রামনের ডিএসএ-সমর্থিত রাজনৈতিক পরিচয় এবং নগর আবাসন ও পুলিশ নীতি নিয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।
নতুন প্রশাসনের সামনে বড় পরীক্ষা
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নগর প্রশাসনের প্রধান নির্বাহী। বিভিন্ন নগর বিভাগের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক নিয়োগ, বাজেট ও জনসেবার অগ্রাধিকার নির্ধারণে মেয়র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রামনকে সিটি কাউন্সিল, নগর বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগ, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করতে হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার আগে শহরের পরিবহন, সড়ক, নিরাপত্তা, আবাসন, পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। রামন বাইসাইকেল লেন, গণপরিবহন, হাঁটার উপযোগী রাস্তা ও নতুন আবাসন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনায় নগরসেবার কার্যকারিতা যাচাই করতে তথ্য ও পরিমাপভিত্তিক মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ক্লার্কের দপ্তরের ২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত মেয়রের নতুন চার বছরের মেয়াদ শুরু হবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর। একই তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন করার কথা। অর্থাৎ রামন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন ১৪ ডিসেম্বর।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় শহরের নেতৃত্বে আসা দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে রামনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। বাড়িভাড়া ও আবাসন–সংকট, গৃহহীন সমস্যা, নিরাপদ রাস্তা, কার্যকর পুলিশ বিভাগ এবং নাগরিক সেবা—এসব ক্ষেত্রে তিনি কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে মেয়র হিসেবে তাঁর সাফল্য।

Source - www.prothomalo.com ↗