Bangladesh · 2026-11-06 16:00:00

নিরাপদ খাদ্যের খোঁজে মাটির কাছে ফেরা: পাবনায় ৮ প্রাকৃতিক কৃষক ও কৃষি প্রতিষ্ঠান পেলেন ব্যতিক্রমী সম্মাননা

নিরাপদ খাদ্যের খোঁজে মাটির কাছে ফেরা: পাবনায় ৮ প্রাকৃতিক কৃষক ও কৃষি প্রতিষ্ঠান পেলেন ব্যতিক্রমী সম্মাননা
নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু উৎপাদনের পরিমাণে নয়, নির্ভর করে মাটির সুস্বাস্থ্য ও চাষের পদ্ধতির ওপরও। এই ভাবনা থেকেই পাবনায় আটজন প্রাকৃতিক কৃষক ও কৃষি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিয়েছে বিকে ফাউন্ডেশন। প্রাকৃতিক কৃষির চর্চাকে উৎসাহিত করতেই ছিল এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
“আমি আমার মাকে ঠিক যতটুকু ভালোবাসি, মাটিকেও ততটুকু ভালোবাসি। ফসল আবাদের নামে মাটির ক্ষতি হয়—এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার করি না।”
টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃষক সানোয়ার হোসেনের এই কথায় ফুটে ওঠে মাটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকনির্ভর কৃষিব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন প্রাকৃতিক কৃষির পথ। তাঁর মতো কৃষকদের চর্চাকে স্বীকৃতি দিতে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করতে পাবনায় দেশের আটজন প্রগতিশীল কৃষক ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ‘প্রাকৃতিক কৃষি সম্মাননা ১৪৩৩’।
৩১ অক্টোবর পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার দয়ালনগর বাহারুন্নেচ্ছা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে বিকে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
কেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ?
শিশু–কিশোরদের পরিবেশনায় কৃষি বিষয়ক জারি গান
আয়োজক ও বিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এমএ বাতেন খানের ভাষ্য, “অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে। বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে মাটির স্বাস্থ্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও পড়ছে হুমকির মুখে।”
বিকে ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এসএম আব্দুর রাজ্জাকঅনুষ্ঠানে বিকে ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এসএম আব্দুর রাজ্জাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একসময়ে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার ছিল ৩৪ শতাংশ, সম্প্রতি তা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কৃষকদের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষিমেলায় প্রদর্শিত বীজদেশে প্রচলিত কৃষিব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অধিক ফলন কিংবা উচ্চফলনশীল জাতের উৎপাদনের জন্য পুরস্কৃত করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে মাটির স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এমন আয়োজন ব্যতিক্রমী। আয়োজকদের মতে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখা কৃষক ও প্রতিষ্ঠানকে এভাবে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ দেশে এই প্রথম। স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রান্তিক কৃষকেরাও।
সম্মাননা পেলেন যাঁরা
প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিজয়ীরাএবারের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আবেদন করেন। সেখান থেকে দুটি বিভাগে মোট আটজন প্রাকৃতিক কৃষক ও প্রতিষ্ঠানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় একটি আজীবন সম্মাননা।
বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান ও কৃষকের সম্মাননা পেয়েছে যথাক্রমে কোলে কাপরা কৃষি খামার ও সানোয়ার হোসেন।
প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘চাষবাস’। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে যৌথভাবে ‘প্রযত্ন’ ও ‘দেশি ফার্ম’।
প্রাকৃতিক কৃষক বিভাগে বিজয়ীরাঅন্যদিকে প্রাকৃতিক কৃষক বিভাগে প্রথম রানারআপ হয়েছেন সুলতানা খাতুন। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন যৌথভাবে শাহাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী।
এ ছাড়া তিলোত্তমা অর্গানিক কৃষি খামারের স্বত্বাধিকারী জোয়াদার নওশের আলীকে দেওয়া হয়েছে আজীবন সম্মাননা।
উভয় বিভাগের বিজয়ী, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপদের জন্য সম্মাননা স্মারক ও অন্যান্য পুরস্কারের পাশাপাশি ছিল অর্থ পুরস্কার। বিজয়ীরা পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে, প্রথম রানারআপেরা ৭৫ হাজার টাকা করে এবং দ্বিতীয় রানারআপেরা ৫০ হাজার টাকা করে।
সম্মানিতদের কৃষিচর্চা
বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান
কোলে কাপরা কৃষি খামার
বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মাননা পাওয়া কোলে কাপরা কৃষি খামার ৫৬ বিঘা জমিতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ৭৫ ধরনের বেশি খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে সারা দেশে কাজ করে চলেছে।
প্রথম রানারআপ: চাষবাস
মানিকগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১২ বছর ধরে প্রাকৃতিক কৃষির চর্চা করছে চাষবাস। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় চুক্তিভিত্তিক কৃষক-কৃষানিদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছে। তাদের উৎপাদিত শস্য ও পণ্য ‘চাষবাস’ পেজের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে নিয়মিত ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ ও বিপণন করা হয়।
যৌথ দ্বিতীয় রানারআপ: প্রযত্ন ও দেশি ফার্ম
বৃহত্তর টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে উপজাতি সম্প্রদায় ও স্থানীয় আদি কৃষকদের নিয়ে সংগঠন গড়ে প্রাকৃতিক কৃষির চর্চা করছে প্রযত্ন। ময়মনসিংহ ও মধুপুর এলাকায় ‘প্রযত্ন’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য সারা দেশে অনলাইন ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিপণনব্যবস্থায় সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে পাবনার ঢালার চর এলাকায় সাত বছর ধরে দেশি গরু পালন করছে দেশি ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত গরুর গোবর দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়। সেই সার ব্যবহার করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে স্থানীয় জাতের কলা ও অন্যান্য ফসল ফলানো হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইনে এসব ফসল ও পণ্য বিপণন করে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষক
বিজয়ী: সানোয়ার হোসেন
বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষকের সম্মাননা পেয়েছেন মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি একজন এগ্রিকালচার ইমপ্যাক্ট পারসন এবং জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক কৃষক। কলেজে শিক্ষকতা ছেড়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মধুপুর এলাকায় প্রাকৃতিক কৃষির চর্চা করছেন তিনি। নিজেই তৈরি করেন জৈব সার ও কীটপতঙ্গ তাড়ানোর উপকরণ। মিশ্র পদ্ধতিতে আনারস, পেয়ারা, কলা, ড্রাগন ফল, কফিসহ প্রায় ২৭ ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন। এসব পণ্য দেশ-বিদেশে বিপণনের পাশাপাশি রপ্তানিও করছেন তিনি।
প্রথম রানারআপ: সুলতানা খাতুন
রাজশাহীর পবা এলাকায় ২০১৪ সাল থেকে কৃষিকাজ করছেন সুলতানা খাতুন। তিনি দুই শতাধিক স্থানীয় জাতের শস্য চাষাবাদ ও বীজ সংরক্ষণ করেন। পাশাপাশি তৈরি করেন ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট। নিরাপদ ও প্রাকৃতিক কৃষির চর্চায় তাঁর পরিচালিত আটটি নারী সংগঠনের ২৪০ জন কৃষাণি ও উদ্যোক্তা যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে শস্য চাষাবাদ, বীজ ও শস্য বিনিময় এবং আদান-প্রদানের কাজ করে চলেছেন তিনি।
রাজশাহীর পবা উপজেলার নারী কৃষক ও প্রথম রানারআপ সুলতানা খাতুন বলেন, “দেশি বীজ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সেই বীজ বিনিময় করি। ধান, গম ও পাটসহ সম্পূর্ণ জৈব সার ও প্রাকৃতিক বিতাড়ক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি আবাদ করি। প্রাকৃতিক কৃষি আবাদের জন্য এমন সম্মাননা আগে কখনো দেখিনি। এটি আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”
যৌথ দ্বিতীয় রানারআপ: শাহাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী
পাবনার কৃষক শাহাদুল ইসলাম ২০১১ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুগন্ধি, পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি করছেন। আদি জাতের ধানসহ আখ, হলুদ, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন তিনি। নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এসব ফসল সারা দেশে বিপণন করছেন।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ আলী পিকেএসএফের অর্থায়নে এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার শুরু করেন। একই জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে একসঙ্গে ২২ ধরনের ফসল আবাদ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি। নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে বেগুনের একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন এবং সেই বেগুনের বীজ সম্প্রসারণেও বিশেষভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিশেষ জাতের আঙুর চাষ করেও এলাকায় সাড়া ফেলেছেন এই কৃষক।
বিচারকমণ্ডলী ও সম্মাননা প্রদানের বিশেষত্ব
জুরি বোর্ডের দুই সদস্য জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির (নাটা) মহাপরিচালক সাইফুল আজম (সর্বডানে) ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন (বাঁ থেকে দ্বিতীয়এই প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির (নাটা) মহাপরিচালক সাইফুল আজম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নোমান ফারুক আহমেদ। আয়োজনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন সৃকৃষির প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান।
এই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, বিচারকমণ্ডলী কিংবা আয়োজকেরা আগে থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেননি। অনুষ্ঠানের মধ্যেই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বিচারকেরা। অতিথিরা তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ফলে পুরো আয়োজনেই ছিল একধরনের চমক।
অতিথিদের বক্তব্য
বক্তব্য রাখছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম অনুষ্ঠানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, “আধুনিক কৃষির নামে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করা হচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা না করতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারব না। এ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারিভাবেও নিরাপদ কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষক সম্মাননা পুরস্কারের উদ্যোক্তা ও বিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এম এ বাতেন খান স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেনকৃষক সম্মাননা পুরস্কারের উদ্যোক্তা ও বিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এম এ বাতেন খান স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এই সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা নিজেদের সম্মানিত বোধ করছি। কারণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে এই সংকট ঘুচবে না। তাই সার ও কীটনাশকের অতিব্যবহার পরিহার করে সনাতন পদ্ধতির নিরাপদ কৃষি আবাদকে এগিয়ে নিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব সেলিম রেজা (সর্ব বামে), কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের কনসালট্যান্ট ড. মাহবুব আলম (উপরে বামে), পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার (নীচে বাঁয়ে), কৃষিবিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার জুয়েল রানা (উপরে ডানে) ও বিকে ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট মিজানুর রহমান (নীচে ডানে)অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব সেলিম রেজা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের কনসালট্যান্ট ড. মাহবুব আলম, অধ্যাপক ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার এবং কৃষিবিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার জুয়েল রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেখ সাইফুর রহমান।
এই সম্মননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে কৃষিমেলাও।
কৃষির ইতিহাস জানার নতুন ঠিকানা ইমান আলী খান কৃষি জাদুঘর
প্রাকৃতিক কৃষি সম্মাননা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন বিকেলে উদ্বোধন করা হয় ইমান আলী খান কৃষি জাদুঘর। আমিনপুরের বাঁধের হাটে বিকে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছোট পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে এই জাদুঘর। এখানে স্থান পেয়েছে প্রাচীন ও বর্তমানে ব্যবহৃত কৃষি উপকরণসহ নানা সামগ্রী। অতিথিরা জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।
কৃষি জাদুঘরের উদ্বোধনবিকে ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট মিজানুর রহমান বলেন, একসময় কৃষকের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ও কৃষি সরঞ্জাম এখানে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব নিদর্শনের মাধ্যমে কৃষির বিবর্তন, গ্রামীণ জীবনযাপন এবং কৃষির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
জাদুঘরে যা আছেতাঁর ভাষ্য, জাদুঘরটি শুধু পুরোনো কৃষি সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থান নয়; বরং কৃষির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও শিকড়ের ইতিহাস জানার একটি উদ্যোগ।
ছবি: বিকে ফাউন্ডেশন

Source - www.haal.fashion ↗