বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনের ছয়তলার একটি কক্ষের সামনে কয়েক জোড়া জুতা। পাশে রাখা ময়লার ঝুড়ি। দরজায় নক করতেই এক নারী দরজা খুলে দেন। ভেতরে দেখা যায়, কক্ষটিতে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চারদিকে মেলে রাখা কাপড়চোপড়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গাড়িচালক।
একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক ভবনে বাইরের একজন ব্যক্তির পরিবার নিয়ে থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অজানা নয়। বরং বিষয়টি জানার পর মহাপরিচালক কক্ষটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও সেখানে বসবাস অব্যাহত আছে। তবে প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকার অনুমতি কে দিয়েছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
৫ নভেম্বর ওই কক্ষে বসবাসকারী নারীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে তাঁরা সেখানে তিন মাস ধরে বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী শিল্পকলা একাডেমির কর্মচারী কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী শিউল বড়ুয়া সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক।
শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনে গাড়িচালকের সংসার, দায় নিচ্ছেন না কেউ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনের ছয়তলার একটি কক্ষের সামনে রাখা কয়েক জোড়া জুতা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ৫ নভেম্বরএ সময় সেখানে আসেন শিউল বড়ুয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
শিউল বড়ুয়া বলেন, ‘কোয়ার্টার চেয়েছি, পাইনি এখনো। আমার শ্বশুর অসুস্থ। ওনাকে ডাক্তার দেখাতে পুরো পরিবার ঢাকায় এসেছে। তাই এখানে রেখেছি। তিন দিন হয় ভবনটিতে উঠেছি।’
—শিউল বড়ুয়া, শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনে বসবাসকারী গাড়িচালককোয়ার্টার চেয়েছি, পাইনি এখনো। আমার শ্বশুর অসুস্থ। ওনাকে ডাক্তার দেখাতে পুরো পরিবার ঢাকায় এসেছে। তাই এখানে রেখেছি। তিন দিন হয় ভবনটিতে উঠেছি।প্রশাসনিক ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাসের অনুমতি আছে কি না, এ প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি।
শিউল বড়ুয়া ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্যে ভবনটিতে থাকার সময়কাল নিয়ে অসংগতি আছে। তাঁর স্ত্রী তিন মাস ধরে থাকার কথা বললেও শিউল বলছেন, তিন দিন আগে উঠেছেন।
অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চ মাসেও ওই দম্পতিকে সেখানে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত মার্চে একটা কাজে ছয়তলায় গিয়ে তাঁদের দেখে অবাক হয়েছিলাম। এরপর অনেকের কাছেই জানতে চাইলেও উত্তর পাইনি। বিষয়টা কেমন না, প্রশাসনিক ভবনে বাইরের মানুষ পরিবার নিয়ে থাকছেন।’
জানেন সবাই, অনুমতি দিয়েছেন কে
এত দিনেও কেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির ওই কর্মকর্তা বলেন, মহাপরিচালক বিষয়টি জানার পর শিউল বড়ুয়াকে সতর্ক করেছিলেন এবং দ্রুত জায়গাটি খালি করে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু এরপরও তাঁরা সেখানে রয়েছেন।
—সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, কর্মচারী ইউনিয়ন, শিল্পকলা একাডেমিআমরা শিল্প-সাহিত্যের প্রসারে কাজ করি। এ ধরনের অনৈতিক কাজ আমরা করি না। যতটুকু জানি, মানবিক কারণে তাঁকে (শিউল) থাকতে দেওয়া হয়েছে।ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে এতে শিল্পকলার কর্মচারী ইউনিয়ন ও কিছু কর্মকর্তা জড়িত। তাঁরা মহাপরিচালকের থেকেও ক্ষমতাবান! তবে ধারণা ছিল, এত দিনে খালি হয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁরা আছেন শুনে অবাক হয়েছি।’
ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মচারী ইউনিয়ন ও একাডেমির কিছু কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত। তবে কারা তাঁকে থাকার সুযোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিল্প-সাহিত্যের প্রসারে কাজ করি। এ ধরনের অনৈতিক কাজ আমরা করি না। যতটুকু জানি, মানবিক কারণে তাঁকে (শিউল) থাকতে দেওয়া হয়েছে।’
—হারুন-অর-রশীদ বলেন, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), শিল্পকলা একাডেমিএকজন গাড়িচালক সেখানে থাকছেন শুনেছি। ওই গাড়িচালক ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেয়ে চলে যাবেন বলে তাঁকে তত দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যে পরিবার নিয়ে থাকছেন, তা আমার জানা ছিল না। পুরো ভবনটি আমরা এখনো বুঝে পাইনি। এ কারণে তাঁকে এ কদিন থাকতে দেওয়া হয়েছিল।নিজেদের কেউ বিপদে পড়লে তাঁকে সাহায্য করা মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘মহাপরিচালক বিষয়টি জেনে শিউল বড়ুয়াকে সতর্ক করেছেন। ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেলেই তিনি চলে যাবেন।’
তবে মানবিক কারণে তাঁকে থাকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, সে বিষয়ে সাইদুর রহমান স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষ আবাসন হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার কর্মচারী ইউনিয়নের আছে কি না, সে বিষয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্ষটির সামনে ময়লার ঝুড়ি। প্রশাসনিক ভবন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ৫ নভেম্বরমহাপরিচালকের নির্দেশের পরও বসবাস
শিউল বড়ুয়ার পরিচয় নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখা-১ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিবহন পুলের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমকে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
—পূর্ণলাক্ষ চাকমা, উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব), প্রশাসন বিভাগ, শিল্পকলা একাডেমিকোনো লিখিত আবেদন নয়, মৌখিক অনুমতি নিয়ে শিউল বড়ুয়া সেখানে থাকেন। তাঁর কোয়ার্টার পেতে আর কদিন লাগবে। তিনি চলে যাবেন।গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ি রাখা হয়। কিন্তু কেউ বসবাস করেন, এটা আমার জানা নেই। এখানে তো কারও থাকার সুযোগ নেই। এটা জানা থাকলে সে সময় মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নিতাম।’
রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ হলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি একজন গাড়িচালকের সেখানে থাকার কথা জেনেছেন। এরপর কক্ষটি খালি করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্কও করেছেন।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘একজন গাড়িচালক সেখানে থাকছেন শুনেছি। ওই গাড়িচালক ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেয়ে চলে যাবেন বলে তাঁকে তত দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যে পরিবার নিয়ে থাকছেন, তা আমার জানা ছিল না। পুরো ভবনটি আমরা এখনো বুঝে পাইনি। এ কারণে তাঁকে এ কদিন থাকতে দেওয়া হয়েছিল।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িচালককে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিয়েছেন কি না, কিংবা কার অনুমোদনে ওই কক্ষে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগে। এ বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পূর্ণলাক্ষ চাকমা বিষয়টি আগে থেকেই জানেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
শিউলের সেখানে বসবাসের বিষয়টিকে ‘মানবিক কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণলাক্ষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো লিখিত আবেদন নয়, মৌখিক অনুমতি নিয়ে শিউল বড়ুয়া সেখানে থাকেন। তাঁর কোয়ার্টার পেতে আর কদিন লাগবে। তিনি চলে যাবেন।’
তবে প্রশাসনিক ভবনে একজন গাড়িচালকের পরিবার নিয়ে থাকার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণেই আমরা আর কিছু বলিনি।’
শিউল বড়ুয়া বলেন, ‘কোয়ার্টার চেয়েছি, পাইনি এখনো। আমার শ্বশুর অসুস্থ। ওনাকে ডাক্তার দেখাতে পুরো পরিবার ঢাকায় এসেছে। তাই এখানে রেখেছি। তিন দিন হয় ভবনটিতে উঠেছি।’
—শিউল বড়ুয়া, শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনে বসবাসকারী গাড়িচালককোয়ার্টার চেয়েছি, পাইনি এখনো। আমার শ্বশুর অসুস্থ। ওনাকে ডাক্তার দেখাতে পুরো পরিবার ঢাকায় এসেছে। তাই এখানে রেখেছি। তিন দিন হয় ভবনটিতে উঠেছি।প্রশাসনিক ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাসের অনুমতি আছে কি না, এ প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি।
শিউল বড়ুয়া ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্যে ভবনটিতে থাকার সময়কাল নিয়ে অসংগতি আছে। তাঁর স্ত্রী তিন মাস ধরে থাকার কথা বললেও শিউল বলছেন, তিন দিন আগে উঠেছেন।
অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চ মাসেও ওই দম্পতিকে সেখানে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত মার্চে একটা কাজে ছয়তলায় গিয়ে তাঁদের দেখে অবাক হয়েছিলাম। এরপর অনেকের কাছেই জানতে চাইলেও উত্তর পাইনি। বিষয়টা কেমন না, প্রশাসনিক ভবনে বাইরের মানুষ পরিবার নিয়ে থাকছেন।’
জানেন সবাই, অনুমতি দিয়েছেন কে
এত দিনেও কেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির ওই কর্মকর্তা বলেন, মহাপরিচালক বিষয়টি জানার পর শিউল বড়ুয়াকে সতর্ক করেছিলেন এবং দ্রুত জায়গাটি খালি করে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু এরপরও তাঁরা সেখানে রয়েছেন।
—সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, কর্মচারী ইউনিয়ন, শিল্পকলা একাডেমিআমরা শিল্প-সাহিত্যের প্রসারে কাজ করি। এ ধরনের অনৈতিক কাজ আমরা করি না। যতটুকু জানি, মানবিক কারণে তাঁকে (শিউল) থাকতে দেওয়া হয়েছে।ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে এতে শিল্পকলার কর্মচারী ইউনিয়ন ও কিছু কর্মকর্তা জড়িত। তাঁরা মহাপরিচালকের থেকেও ক্ষমতাবান! তবে ধারণা ছিল, এত দিনে খালি হয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁরা আছেন শুনে অবাক হয়েছি।’
ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মচারী ইউনিয়ন ও একাডেমির কিছু কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত। তবে কারা তাঁকে থাকার সুযোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিল্প-সাহিত্যের প্রসারে কাজ করি। এ ধরনের অনৈতিক কাজ আমরা করি না। যতটুকু জানি, মানবিক কারণে তাঁকে (শিউল) থাকতে দেওয়া হয়েছে।’
—হারুন-অর-রশীদ বলেন, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), শিল্পকলা একাডেমিএকজন গাড়িচালক সেখানে থাকছেন শুনেছি। ওই গাড়িচালক ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেয়ে চলে যাবেন বলে তাঁকে তত দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যে পরিবার নিয়ে থাকছেন, তা আমার জানা ছিল না। পুরো ভবনটি আমরা এখনো বুঝে পাইনি। এ কারণে তাঁকে এ কদিন থাকতে দেওয়া হয়েছিল।নিজেদের কেউ বিপদে পড়লে তাঁকে সাহায্য করা মানবিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘মহাপরিচালক বিষয়টি জেনে শিউল বড়ুয়াকে সতর্ক করেছেন। ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেলেই তিনি চলে যাবেন।’
তবে মানবিক কারণে তাঁকে থাকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, সে বিষয়ে সাইদুর রহমান স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষ আবাসন হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার কর্মচারী ইউনিয়নের আছে কি না, সে বিষয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্ষটির সামনে ময়লার ঝুড়ি। প্রশাসনিক ভবন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ৫ নভেম্বরমহাপরিচালকের নির্দেশের পরও বসবাস
শিউল বড়ুয়ার পরিচয় নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখা-১ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিবহন পুলের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমকে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
—পূর্ণলাক্ষ চাকমা, উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব), প্রশাসন বিভাগ, শিল্পকলা একাডেমিকোনো লিখিত আবেদন নয়, মৌখিক অনুমতি নিয়ে শিউল বড়ুয়া সেখানে থাকেন। তাঁর কোয়ার্টার পেতে আর কদিন লাগবে। তিনি চলে যাবেন।গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ি রাখা হয়। কিন্তু কেউ বসবাস করেন, এটা আমার জানা নেই। এখানে তো কারও থাকার সুযোগ নেই। এটা জানা থাকলে সে সময় মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নিতাম।’
রেজাউদ্দিন স্টালিনের মেয়াদ শেষ হলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি একজন গাড়িচালকের সেখানে থাকার কথা জেনেছেন। এরপর কক্ষটি খালি করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্কও করেছেন।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘একজন গাড়িচালক সেখানে থাকছেন শুনেছি। ওই গাড়িচালক ডিসেম্বরে কোয়ার্টার পেয়ে চলে যাবেন বলে তাঁকে তত দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি যে পরিবার নিয়ে থাকছেন, তা আমার জানা ছিল না। পুরো ভবনটি আমরা এখনো বুঝে পাইনি। এ কারণে তাঁকে এ কদিন থাকতে দেওয়া হয়েছিল।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িচালককে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিয়েছেন কি না, কিংবা কার অনুমোদনে ওই কক্ষে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগে। এ বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পূর্ণলাক্ষ চাকমা বিষয়টি আগে থেকেই জানেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
শিউলের সেখানে বসবাসের বিষয়টিকে ‘মানবিক কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণলাক্ষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো লিখিত আবেদন নয়, মৌখিক অনুমতি নিয়ে শিউল বড়ুয়া সেখানে থাকেন। তাঁর কোয়ার্টার পেতে আর কদিন লাগবে। তিনি চলে যাবেন।’
তবে প্রশাসনিক ভবনে একজন গাড়িচালকের পরিবার নিয়ে থাকার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণেই আমরা আর কিছু বলিনি।’
Source - www.prothomalo.com ↗