Bangladesh · 2026-11-06 21:23:14

‘ইরানে হামলা হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে জবাব দেবে তেহরান’

‘ইরানে হামলা হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে জবাব দেবে তেহরান’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে তাতে সহযোগিতাকারী যেকোনো দেশ বা শক্তিও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বেলালি।

ইরানের আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল-আলমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সম্প্রতি ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ি সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের ও মাত্রার হুমকির জবাব দিতে হবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই। এ নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আলী বেলালি বলেন, এর অর্থ হতে পারে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে কোনো দেশ বা শক্তি সহায়তা করলে সেটিও ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা সহযোগিতা করছে এবং তাদের মধ্যে কী ধরনের সামরিক সমন্বয় রয়েছে, তা বিবেচনা করা হবে।

ইরানের ওপর নতুন করে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে উপযুক্ত সময়ে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

আলী বেলালি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলায় ইরান এখন সামরিক সরঞ্জামের জন্য বাইরের দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও শত্রুপক্ষকে মোকাবিলার ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ চালায়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারা আবারও ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধটি থেমে যায়। ইরানের দাবি, উভয় সংঘাতেই দেশটির প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার মুখে আগ্রাসীরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।

এদিকে, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আলী বেলালি বলেন, আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো, শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও ভালো সক্ষমতা দেখিয়েছে।

তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো দেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ড এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা সম্ভব।

তাঁর দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অধিকাংশই মাটির গভীরে নির্মিত। ফলে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও সামরিক অভিযান চালানোর উপযোগী করেই এসব স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি খোররামশাহর ও ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ৮০টি ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, গতিপথ পরিবর্তন করে উড়তে সক্ষম ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার পারস্য উপসাগরীয় ক্ষেপণাস্ত্র চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে দূরে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

আলী বেলালির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ইরান একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার এবং বিশেষ কৌশল অবলম্বন করায় প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রতিপক্ষ গোপন করছে এবং সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আরোপ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরানের অস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার উল্লেখ করে আইআরজিসির এই উপদেষ্টা বলেন, এই সীমার মধ্যে মার্কিন সেনাদের কোনো অবস্থানই নিরাপদ নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই পাল্লার মধ্যে থাকা সামরিক অবস্থানগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করা এবং পশ্চিম এশিয়া ছেড়ে চলে যাওয়া।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে। উৎপাদন এতটাই বেড়েছে যে, এসব অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য নতুন স্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

সূত্র- পার্সটুডে

Source - www.bd24live.com ↗