পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে সফল পপুলিস্ট উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর নেতাদের মধ্যে এমন একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়। ইতালির মাত্তেও সালভিনি, ফ্রান্সের জর্ডান বারদেলা, সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের জিমির আকিসন এবং বেলজিয়ামের ‘ফ্লামস বেলাং’-এর টম ভ্যান গ্রিকেন—তাঁরা সবাই এখন যে দলগুলোর প্রধান, অতীতে সেগুলোর যুব সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছিলেন উগ্র ডানপন্থী যুব সংগঠনের সাবেক নেতা। তিনি বলছিলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার চেয়েও একজন মানুষ ও ইতালীয় হিসেবে আমার আত্মপ্রকাশের পেছনে আমার যুব সংগঠন অ্যাকটিভিজমের অবদান সবচেয়ে বেশি। এর চেয়ে ভালো রাজনৈতিক শিক্ষার জায়গা আর হতে পারে না।’ আমাদের নতুন বই ইয়ুথ উইংস অব দ্য পপুলিস্ট র্যাডিক্যাল রাইট–এর গবেষণায় আমরা ইউরোপের এমন ১০টি সংগঠন বিশ্লেষণ করেছি। আমরা দেখেছি, এগুলো উগ্র ডানপন্থীদের তৃণমূল কর্মী, প্রতিনিধি এবং ভবিষ্যতের নেতাদের সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতিতে সাহায্য করে।
ইউরোপে যুব সংগঠনের হাত ধরে যেভাবে উগ্র ডানপন্থার বিস্তার
ইউরোপ কেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছেআমরা লক্ষ করেছি যে ২০২০-এর দশকে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো যখন সম্প্রসারিত হচ্ছে, তখন যুব সংগঠনের নেতা ও তাঁদের সাধারণ কর্মীরা দলীয় তিনটি মূল লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছেন: আন্তর্জাতিকীকরণ, পেশাদারত্ব এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন (অথবা স্বাভাবিকীকরণ)।
প্রথমত, এই যুব সংগঠনগুলো তাদের মূল দলের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে নতুন আন্তদেশীয় জোট গড়ে তুলছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সাল থেকে বুদাপেস্টে প্রতিবছর আয়োজিত ‘ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক প্যাট্রিয়ট সামিট’।
এসব সম্মেলন ইউরোপ, ভারত, ইসরায়েল, লাতিন আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুবনেতাদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, যাতে তারা সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং তাদের ক্যারিয়ারজুড়ে টিকে থাকার মতো পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, তারা আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণে গভীরভাবে যুক্ত। একসময় যাদের ‘অপেশাদার’ বলে উপহাস করা হতো (কিছু ক্ষেত্রে যা সঠিকও ছিল), সেই উগ্র ডানপন্থীরা এখন পেশাদারত্ব গড়ে তুলতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। দলে যোগ দেওয়া তরুণদের কেবল নীতি ও ইতিহাস সম্পর্কেই নয়, বরং তাদের বক্তৃতাকলা ও মিডিয়া যোগাযোগও শেখানো হচ্ছে। তাঁদের হবু রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে আর আকিসন, বারদেলা, মেলোনি ও সালভিনিদের সাফল্যই এর বাস্তব প্রমাণ।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষিত তরুণদের দলে ভেড়ানো হচ্ছে। তাদের চেহারা ও কথাবার্তা সংবাদমাধ্যমে দেখানো উগ্র ডানপন্থী ক্রুদ্ধ তরুণদের গতানুগতিক ভাবমূর্তির চেয়ে একেবারেই আলাদা। এটি উগ্র ডানপন্থীদের সমাজে সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করছে। আরও স্পষ্টভাষী, পেশাদার এবং মার্জিত চেহারার নেতা তৈরি করার ফলে ভোটারদের কাছে এই দলগুলোকে আর অবৈধ বা চরমপন্থী মনে হয় না, বরং গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দেয়।
ফ্রান্সের জঁ-মারিন লো পেন বা ইতালির উম্বার্তো বোসির মতো অতীতে অমার্জিত নেতাদের থেকে তারা নিজেদের যত দূর সরিয়ে নিতে পারছে, তত বেশি তাদের মতো সাধারণ তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে।
তবে এই উগ্র ডানপন্থীরা হয়তো তাঁদের দলীয় আচরণের রুক্ষ ভাব কিছুটা মসৃণ করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মূল আদর্শ এখনো চরম জাতীয়তাবাদী ও পরমত–অসহিষ্ণু। অন্য কথায়, যুব সংগঠনগুলোর মাধ্যমে উগ্র ডানপন্থীদের এই পুনর্জন্ম উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব চালাবে কে—চীন নাকি ইউরোপচাকরির অনিশ্চয়তা এবং আবাসনসংকটের কারণে ইউরোপের তরুণদের একটি বড় অংশ তাঁদের ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মূলধারার দলগুলো তাঁদের জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে—এমন আশায় তরুণেরা যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর বিপরীতে আমাদের সাক্ষাৎকার দেওয়া তরুণ উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা জানিয়েছেন যে তাঁদের দলগুলো সরাসরি তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে এবং সমাধানের পথ দেখায়। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও এখন ঠিক একই কাজ করা উচিত।
● ক্যাস মুডে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অধ্যাপক
● ডানকান ম্যাকডোনেল অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অবস্থিত ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ
দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
প্রথমত, এই যুব সংগঠনগুলো তাদের মূল দলের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে নতুন আন্তদেশীয় জোট গড়ে তুলছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সাল থেকে বুদাপেস্টে প্রতিবছর আয়োজিত ‘ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক প্যাট্রিয়ট সামিট’।
এসব সম্মেলন ইউরোপ, ভারত, ইসরায়েল, লাতিন আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুবনেতাদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, যাতে তারা সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং তাদের ক্যারিয়ারজুড়ে টিকে থাকার মতো পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, তারা আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণে গভীরভাবে যুক্ত। একসময় যাদের ‘অপেশাদার’ বলে উপহাস করা হতো (কিছু ক্ষেত্রে যা সঠিকও ছিল), সেই উগ্র ডানপন্থীরা এখন পেশাদারত্ব গড়ে তুলতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। দলে যোগ দেওয়া তরুণদের কেবল নীতি ও ইতিহাস সম্পর্কেই নয়, বরং তাদের বক্তৃতাকলা ও মিডিয়া যোগাযোগও শেখানো হচ্ছে। তাঁদের হবু রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে আর আকিসন, বারদেলা, মেলোনি ও সালভিনিদের সাফল্যই এর বাস্তব প্রমাণ।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষিত তরুণদের দলে ভেড়ানো হচ্ছে। তাদের চেহারা ও কথাবার্তা সংবাদমাধ্যমে দেখানো উগ্র ডানপন্থী ক্রুদ্ধ তরুণদের গতানুগতিক ভাবমূর্তির চেয়ে একেবারেই আলাদা। এটি উগ্র ডানপন্থীদের সমাজে সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করছে। আরও স্পষ্টভাষী, পেশাদার এবং মার্জিত চেহারার নেতা তৈরি করার ফলে ভোটারদের কাছে এই দলগুলোকে আর অবৈধ বা চরমপন্থী মনে হয় না, বরং গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দেয়।
ফ্রান্সের জঁ-মারিন লো পেন বা ইতালির উম্বার্তো বোসির মতো অতীতে অমার্জিত নেতাদের থেকে তারা নিজেদের যত দূর সরিয়ে নিতে পারছে, তত বেশি তাদের মতো সাধারণ তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে।
তবে এই উগ্র ডানপন্থীরা হয়তো তাঁদের দলীয় আচরণের রুক্ষ ভাব কিছুটা মসৃণ করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মূল আদর্শ এখনো চরম জাতীয়তাবাদী ও পরমত–অসহিষ্ণু। অন্য কথায়, যুব সংগঠনগুলোর মাধ্যমে উগ্র ডানপন্থীদের এই পুনর্জন্ম উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব চালাবে কে—চীন নাকি ইউরোপচাকরির অনিশ্চয়তা এবং আবাসনসংকটের কারণে ইউরোপের তরুণদের একটি বড় অংশ তাঁদের ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মূলধারার দলগুলো তাঁদের জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে—এমন আশায় তরুণেরা যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর বিপরীতে আমাদের সাক্ষাৎকার দেওয়া তরুণ উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা জানিয়েছেন যে তাঁদের দলগুলো সরাসরি তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে এবং সমাধানের পথ দেখায়। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও এখন ঠিক একই কাজ করা উচিত।
● ক্যাস মুডে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অধ্যাপক
● ডানকান ম্যাকডোনেল অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অবস্থিত ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ
দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
Source - www.prothomalo.com ↗