Bangladesh · 2026-11-06 22:17:37

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে: ইশরাক

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে: ইশরাক
মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদকের হটস্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে একটি অসাধু চক্র। মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তাদের পরিচয় প্রকাশ করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তি মাদকের হটস্পটগুলো পরিচালনা করে। মাদক কারবারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা খতিয়ে দেখে তার মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নানা কৌশলে সারা দেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে কয়েকটি পরিচিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু নামসর্বস্ব ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

একটি গোষ্ঠী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদক ছড়িয়ে সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, মাদকাসক্তির কারণে মানুষ নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং বহুল আলোচিত ঐশীর ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মাদকের নেতিবাচক প্রভাব এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের অন্যতম কারণ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, দেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। এখন হাত বাড়ালেই গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া যাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রাম, পাড়া-মহল্লাতেও ইয়াবার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করলেও ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে অপরাধের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মাদক ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মাদক কারবারিরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলে ফেলে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক কারবারি যেন আইনের ফাঁক গলে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম।

Source - www.bd24live.com ↗