বল হাতে হাসান মাহমুদ দাপট দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস ৩৫৬ রানে থামিয়ে দিলেও, ব্যাট হাতে সেই স্বস্তি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে স্বাগতিকরা।
গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এখনো পিছিয়ে ২৬৮ রানে। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২৪১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের জুটি ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে হাসান মাহমুদ ফিরিয়ে দেন জাঙ্গুকে।
২১২ বলে ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বোল্ড হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও দুটি ছক্কা। এরপর অধিনায়ক রোস্টন চেজকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন হাসান। পরপর দুই বলে উইকেট পেলেও হ্যাটট্রিকের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। জশুয়া বিশপ রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তবে শেষ পর্যন্ত হাসানের শিকার হয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে।
হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পরও বিপাকে বাংলাদেশ

লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন বিশপ। তাতেই টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। দেশের মাটিতে এটিই তার প্রথম ফাইফার। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন হাসানের। এত দিন চারবার করে পাঁচ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি ও শাহাদাত হোসেন।
লাঞ্চের পর শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ছয় উইকেট পেলেন এই পেসার। শেষদিকে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসের জুটি বাংলাদেশকে আরও কিছুটা ভোগায়। শেষ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৩ রান। সিলসকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার হাসান। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান কোনো উইকেট পাননি। ছয় উইকেট নেওয়ার পথে আরও দুটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি গড়েছেন হাসান। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ে উইকেট পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে নিজের প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের কীর্তিও গড়েছেন।
তবে বোলারদের সাফল্যের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম মাঠের বাইরে থাকায় ওপেনিংয়ে নামতে হয় নাঈম হাসানকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও আগে কখনো ওপেন করেননি এই বোলিং অলরাউন্ডার। টেস্টে প্রথমবারের মতো ওপেন করতে নেমে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। জেইডেন সিলসের বলে সিøপে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিমও ইনিংস বড় করতে পারেননি। জাস্টিন গ্রিভসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন। ৩৩ বলে ১৬ রান করেন তানজিদ। ২২ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ২৯ রানের জুটি গড়ার পর শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ৬৫ বলে ১৮ রান করেন তিনি। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ বিকেলে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন হৃদয়। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৩৭ রান। দিন শেষে হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত। ৪০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮।
আজ তৃতীয় দিনের শুরুতে এই জুটির ওপরই থাকবে বাংলাদেশের ভরসা। ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহের চাপ কাটিয়ে ম্যাচে ফিরতে হলে প্রথম কাজ হবে উইকেট না হারিয়ে জুটি গড়া। আপাতত হাসানের বোলিং-সাফল্যের পর ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে।
The post হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পরও বিপাকে বাংলাদেশ appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.
Source - bangladeshdiplomat.com ↗