প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাছ ধরার এই বিষয় দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণ, হাইস্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মাছ ধরার নানা রকম নতুন আয়োজন ও প্রোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে।
আগস্ট মাসের এক শনিবার। ভোরের আলো কেবল ফুটেছে। আমেরিকার টেনেসির প্যারিস ল্যান্ডিং স্টেট পার্কের হ্রদে তখন একসঙ্গে ২৫টি নৌকা নামানো হলো। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় ‘বাস’ (bass fish) নামের মাছ ধরার টুর্নামেন্টের ফাইনাল শুরু হতে যাচ্ছিল। চারপাশ তখন দারুণ উৎসাহে ভরপুর। জাতীয় সংগীত বাজার পর মুহূর্তেই নৌকাগুলো কেনটাকি লেকের নীল পানিতে দ্রুত গতিতে ছুটে চলল।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার ১৮ বছর বয়সী কিশোর কেইজ ব্র্যাগ সবার থেকে একটু আলাদা পথে, মেরিনা থেকে সামান্য দূরে নিজের নৌকা চালিয়ে গেলেন। কারণ সে জানত, ওই জায়গাটিতে বড় মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর কেটে গেল দীর্ঘ আট ঘণ্টা। সময় শেষ হতেই সে হাসিমুখে ফিরে এলো। তার সঙ্গে থাকা জালের ব্যাগে ছিল তিনটি বড় বাস মাছ।
বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারলে মিলবে স্কলারশিপ ও লাখ টাকার পুরস্কার

মাছগুলোর ওজন মাপা হলো। সব মিলিয়ে সেগুলোর ওজন দাঁড়াল ১১ পাউন্ড ৩ আউন্স, যা প্রায় ৫ কেজির বেশি হবে। এই ওজন দিয়েই সে পেছনে ফেলে দিল বাকি ২১৩টি দলকে। আর এর মাধ্যমেই কেইজ জিতে নিল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। পুরস্কার হিসেবে সে পেল ২৫ হাজার ডলার দামের একটি চমৎকার মাছ ধরার নৌকা এবং কলেজে পড়াশোনার জন্য পুরো ৫ হাজার ডলারের স্কলারশিপ।
গত ১০ বছরে তরুণদের মধ্যে এই খেলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। বাস নেশন নামের সংস্থায় এখন প্রায় ১২ হাজার সদস্য কাজ করছেমূলত আমেরিকার কেন্টাকি, টেক্সাস, টেনেসি ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বড় বড় মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় তরুণেরা যেমন দারুণ আনন্দ পায়, তেমনি নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগও খুঁজে নেয়।
বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংজিতে কেন মাছ ধরা নিষিদ্ধশখ থেকে যেভাবে প্রথা তৈরি হলো
বাস মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা প্রায় ৬০ বছর ধরে চলছে। তবে গত এক-দুই দশকে এটি বড় ধরনের পেশাদার খেলায় পরিণত হয়েছে। মাছ ধরার ছিপ, রিল ও নৌকা ব্যবহার করে কলেজ স্কলারশিপ বা পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের কাছে এটি এখন দারুণ জনপ্রিয়। হাইস্কুলের অন্যান্য খেলার মতো এখন এতেও দল, জার্সি ও উৎসাহ দেওয়ার মতো আয়োজন থাকে।
হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় ‘বাস’ (bass fish) নামের মাছ ধরার টুর্নামেন্টের ফাইনাল শুরু হতে যাচ্ছিলপ্রতিযোগিতার নিয়ম ও খরচ
এই প্রতিযোগিতায় এক বা দুই সদস্যের দলগুলো অংশ নেয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল বড় জোর তিনটি মাছ ধরতে পারে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য হতে অন্তত ১৫ ইঞ্চি হতে হয়। মাছগুলো অবশ্যই জীবিত অবস্থায় ওজন করতে হয় এবং ওজন শেষে আবার হ্রদে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই খেলায় ভালো করতে হলে বেশ খরচ করতে হয়। মাছ ধরার বিশেষ একটি বাস বোটের দাম ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া মাছ খোঁজার ডিজিটাল যন্ত্র ফিশ ফাইন্ডার, ভালো মানের ছিপ ও প্রতিযোগিতার নানা খরচের জন্য পরিবারকে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ বহন করতে হয়।
দলের খরচের হিসাব
স্কুলগুলোতে মাছ ধরার দলগুলো কিন্তু কোনো অফিশিয়াল খেলা বা ক্লাসের বিষয়ের মতো চলে না। এগুলো সাধারণত সাধারণ ক্লাব হিসেবে পরিচালিত হয়। এর একটা বড় কারণ হলো, দামি নৌকা সামলানো এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্কুলগুলো কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।
তা ছাড়া এসব দলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো টাকা বা অনুদান দেওয়া হয় না। তাই দলগুলোকে নিজেদের খরচ নিজেদেরই চালাতে হয়। বিভিন্ন কোম্পানির স্পনসরশিপ বা সাহায্য নিয়ে এই টাকা জোগাড় করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, লাখ টাকা দামের নৌকা বাদ দিলেও কেবল প্র্যাকটিস বা অনুশীলনের পেছনেই একেকজন শিক্ষার্থীর মরসুমে প্রায় ১ হাজার ডলার খরচ হয়ে যায়। আর সব অভিভাবকের তো আর সন্তানদের নৌকা ঘাটে নিয়ে যাওয়ার মতো এত লম্বা সময় বা সুযোগ থাকে না।
চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া নয় কেনকলেজ স্কলারশিপ ও মাছ ধরার ভবিষ্যৎ
অন্যান্য খেলাধুলার মতো মাছ ধরাকেও এখন কলেজ স্কলারশিপ পাওয়ার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬০০টি কলেজে মাছ ধরার আলাদা প্রোগ্রাম বা দল রয়েছে। টেনেসির বেথেল ইউনিভার্সিটি দেশের প্রথম কলেজ, যারা ২০০৯ সাল থেকে মাছ ধরার জন্য স্কলারশিপ দেওয়া শুরু করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচ গ্যারি ম্যাসন টুর্নামেন্ট চলাকালীন অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং মেধাবী তরুণদের পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপের সুযোগ করে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার ১৮ বছর বয়সী কিশোর কেইজ ব্র্যাগ সবার থেকে একটু আলাদা পথে, মেরিনা থেকে সামান্য দূরে নিজের নৌকা চালিয়ে গেলেনস্পনসর ও পেশাদার মাছশিকারি হওয়া
আজকাল এই মাছ ধরার খেলায় এসেছে বড় বড় পরিবর্তন। এখন এতে যুক্ত হয়েছে পেশাদার প্রতিযোগিতা, বড় বড় কোম্পানির স্পনসরশিপ এবং টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর মতো প্রতিযোগিতায় টয়োটার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড স্পনসর হিসেবে থাকে। তাদের খেলাগুলো সরাসরি টিভিতে ও ইন্টারনেটে দেখা যায়। ২০২৬ সালের ‘বাস প্রো ট্যুর’-এর টুর্নামেন্টে জয়ী প্রতিযোগীকে সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছে।
তরুণ বিজয়ী কেইজ ব্র্যাগ জানিয়েছে, কলেজ পড়া বাদ দিয়ে স্থানীয় টুর্নামেন্ট ও মাছ ধরার মাধ্যমেই পেশাদার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চায়। কারণ, সে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই নদীতে মাছ ধরার পেছনে ব্যয় করে।
ইলিশের নামে চলা চন্দনা ও সুরমা মাছ কীভাবে চিনববাস মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা প্রায় ৬০ বছর ধরে চলছেদিন দিন বাড়ছে জনপ্রিয়তা
গত ১০ বছরে তরুণদের মধ্যে এই খেলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। বাস নেশন নামের সংস্থায় এখন প্রায় ১২ হাজার সদস্য কাজ করছে। আমেরিকার ৩৫টি অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ১০০টি হাইস্কুল ও যুব ক্লাবে এরা ছড়িয়ে আছে। অথচ এক দশক আগে মাত্র ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৬০০টি ক্লাবে সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৬ হাজার। বর্তমানে অন্তত ৮টি অঙ্গরাজ্যে এই মাছ ধরাকে স্কুলের অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থী মাছ ধরতে পছন্দ করে, তাদের জন্য এই দলে যোগ দেওয়া বেশ আনন্দের। এর মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত শখ স্কুলের গর্বের বিষয়ে পরিণত হতে পারে। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর কর্মকর্তা ডেভ ওয়াশবার্ন জানান, এই খেলায় এখন অন্য সব প্রচলিত খেলার মতোই দলের জার্সি থাকে, উৎসাহ দেওয়ার জন্য র্যালি হয় এবং পুরস্কার দেওয়ার নানা আয়োজন থাকে।
যেসব কিশোরের আগ্রহ অন্য সাধারণ খেলাধুলায় মেলে না, তাদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ। ওয়াশবার্ন বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা, যেখানে তাদের এমন একটি সুন্দর শখকে অন্য যেকোনো বড় খেলার মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস, নিউইয়র্ক টাইমস
হাঙর, শাপলাপাতা আর পীতাম্বরী মাছ যেভাবে সমুদ্র রক্ষা করে
গত ১০ বছরে তরুণদের মধ্যে এই খেলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। বাস নেশন নামের সংস্থায় এখন প্রায় ১২ হাজার সদস্য কাজ করছেমূলত আমেরিকার কেন্টাকি, টেক্সাস, টেনেসি ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বড় বড় মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় তরুণেরা যেমন দারুণ আনন্দ পায়, তেমনি নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগও খুঁজে নেয়।
বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংজিতে কেন মাছ ধরা নিষিদ্ধশখ থেকে যেভাবে প্রথা তৈরি হলো
বাস মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা প্রায় ৬০ বছর ধরে চলছে। তবে গত এক-দুই দশকে এটি বড় ধরনের পেশাদার খেলায় পরিণত হয়েছে। মাছ ধরার ছিপ, রিল ও নৌকা ব্যবহার করে কলেজ স্কলারশিপ বা পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের কাছে এটি এখন দারুণ জনপ্রিয়। হাইস্কুলের অন্যান্য খেলার মতো এখন এতেও দল, জার্সি ও উৎসাহ দেওয়ার মতো আয়োজন থাকে।
হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত দেশের সবচেয়ে বড় ‘বাস’ (bass fish) নামের মাছ ধরার টুর্নামেন্টের ফাইনাল শুরু হতে যাচ্ছিলপ্রতিযোগিতার নিয়ম ও খরচ
এই প্রতিযোগিতায় এক বা দুই সদস্যের দলগুলো অংশ নেয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল বড় জোর তিনটি মাছ ধরতে পারে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য হতে অন্তত ১৫ ইঞ্চি হতে হয়। মাছগুলো অবশ্যই জীবিত অবস্থায় ওজন করতে হয় এবং ওজন শেষে আবার হ্রদে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই খেলায় ভালো করতে হলে বেশ খরচ করতে হয়। মাছ ধরার বিশেষ একটি বাস বোটের দাম ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া মাছ খোঁজার ডিজিটাল যন্ত্র ফিশ ফাইন্ডার, ভালো মানের ছিপ ও প্রতিযোগিতার নানা খরচের জন্য পরিবারকে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ বহন করতে হয়।
দলের খরচের হিসাব
স্কুলগুলোতে মাছ ধরার দলগুলো কিন্তু কোনো অফিশিয়াল খেলা বা ক্লাসের বিষয়ের মতো চলে না। এগুলো সাধারণত সাধারণ ক্লাব হিসেবে পরিচালিত হয়। এর একটা বড় কারণ হলো, দামি নৌকা সামলানো এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্কুলগুলো কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না।
তা ছাড়া এসব দলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো টাকা বা অনুদান দেওয়া হয় না। তাই দলগুলোকে নিজেদের খরচ নিজেদেরই চালাতে হয়। বিভিন্ন কোম্পানির স্পনসরশিপ বা সাহায্য নিয়ে এই টাকা জোগাড় করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, লাখ টাকা দামের নৌকা বাদ দিলেও কেবল প্র্যাকটিস বা অনুশীলনের পেছনেই একেকজন শিক্ষার্থীর মরসুমে প্রায় ১ হাজার ডলার খরচ হয়ে যায়। আর সব অভিভাবকের তো আর সন্তানদের নৌকা ঘাটে নিয়ে যাওয়ার মতো এত লম্বা সময় বা সুযোগ থাকে না।
চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া নয় কেনকলেজ স্কলারশিপ ও মাছ ধরার ভবিষ্যৎ
অন্যান্য খেলাধুলার মতো মাছ ধরাকেও এখন কলেজ স্কলারশিপ পাওয়ার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬০০টি কলেজে মাছ ধরার আলাদা প্রোগ্রাম বা দল রয়েছে। টেনেসির বেথেল ইউনিভার্সিটি দেশের প্রথম কলেজ, যারা ২০০৯ সাল থেকে মাছ ধরার জন্য স্কলারশিপ দেওয়া শুরু করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচ গ্যারি ম্যাসন টুর্নামেন্ট চলাকালীন অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং মেধাবী তরুণদের পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপের সুযোগ করে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার ১৮ বছর বয়সী কিশোর কেইজ ব্র্যাগ সবার থেকে একটু আলাদা পথে, মেরিনা থেকে সামান্য দূরে নিজের নৌকা চালিয়ে গেলেনস্পনসর ও পেশাদার মাছশিকারি হওয়া
আজকাল এই মাছ ধরার খেলায় এসেছে বড় বড় পরিবর্তন। এখন এতে যুক্ত হয়েছে পেশাদার প্রতিযোগিতা, বড় বড় কোম্পানির স্পনসরশিপ এবং টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর মতো প্রতিযোগিতায় টয়োটার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড স্পনসর হিসেবে থাকে। তাদের খেলাগুলো সরাসরি টিভিতে ও ইন্টারনেটে দেখা যায়। ২০২৬ সালের ‘বাস প্রো ট্যুর’-এর টুর্নামেন্টে জয়ী প্রতিযোগীকে সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছে।
তরুণ বিজয়ী কেইজ ব্র্যাগ জানিয়েছে, কলেজ পড়া বাদ দিয়ে স্থানীয় টুর্নামেন্ট ও মাছ ধরার মাধ্যমেই পেশাদার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চায়। কারণ, সে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই নদীতে মাছ ধরার পেছনে ব্যয় করে।
ইলিশের নামে চলা চন্দনা ও সুরমা মাছ কীভাবে চিনববাস মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা প্রায় ৬০ বছর ধরে চলছেদিন দিন বাড়ছে জনপ্রিয়তা
গত ১০ বছরে তরুণদের মধ্যে এই খেলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। বাস নেশন নামের সংস্থায় এখন প্রায় ১২ হাজার সদস্য কাজ করছে। আমেরিকার ৩৫টি অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ১০০টি হাইস্কুল ও যুব ক্লাবে এরা ছড়িয়ে আছে। অথচ এক দশক আগে মাত্র ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৬০০টি ক্লাবে সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৬ হাজার। বর্তমানে অন্তত ৮টি অঙ্গরাজ্যে এই মাছ ধরাকে স্কুলের অফিশিয়াল বা আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থী মাছ ধরতে পছন্দ করে, তাদের জন্য এই দলে যোগ দেওয়া বেশ আনন্দের। এর মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত শখ স্কুলের গর্বের বিষয়ে পরিণত হতে পারে। ‘মেজর লিগ ফিশিং’-এর কর্মকর্তা ডেভ ওয়াশবার্ন জানান, এই খেলায় এখন অন্য সব প্রচলিত খেলার মতোই দলের জার্সি থাকে, উৎসাহ দেওয়ার জন্য র্যালি হয় এবং পুরস্কার দেওয়ার নানা আয়োজন থাকে।
যেসব কিশোরের আগ্রহ অন্য সাধারণ খেলাধুলায় মেলে না, তাদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ। ওয়াশবার্ন বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা, যেখানে তাদের এমন একটি সুন্দর শখকে অন্য যেকোনো বড় খেলার মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস, নিউইয়র্ক টাইমস
হাঙর, শাপলাপাতা আর পীতাম্বরী মাছ যেভাবে সমুদ্র রক্ষা করে
Source - www.kishoralo.com ↗