কিশোরগঞ্জের মেয়ে মিষ্টির শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে সখ্য খুব ছোটবেলা থেকেই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নাচে তার হাতেখড়ি। নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের পথচলা শুরু করলেও ভেতরে ভেতরে লালন করতেন অভিনয়ের স্বপ্ন।
‘দীপ্ত স্টার হান্ট’ প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়াটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। প্রতিযোগিতার সেরার মুকুট মাথায় তোলার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। খুব দ্রুতই ডাক পান মেগা ধারাবাহিক ‘খুশবু’-তে প্রধান চরিত্রে কাজ করার। দীর্ঘ ধারাবাহিকটির নামভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছেন এবং কুড়াচ্ছেন তুমুল প্রশংসা।
তবে স্রেফ জনপ্রিয়তা বা তথাকথিত ‘নায়িকা’ তকমা নয়, মিষ্টি ঘোষের লক্ষ্য তিনি একজন জাত ‘অভিনেত্রী’ হয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেবেন। শুটিং সেটের ব্যস্ততা, বারবার শটের ডাক আর চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার প্রতিনিয়ত চেষ্টাই এখন মিষ্টির প্রাত্যহিক জীবনের গল্প। গ্যাপ সম্প্রতি মিষ্টি অভিনীত মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’।
ওটিটিতে কাজ করার প্রবল ইচ্ছার কথা জানালেন মিষ্টি
এই চলচ্চিত্র থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘গ্যাপ মুক্তির পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। যখন কাজটি করি তখন জানতাম না এত বড় পরিসরে মুক্তি পাবে। খুব যতœ নিয়ে কাজটি করেছিলাম। ডাবিংয়ের সময়ও বুঝিনি এতটা ভালো হবে। প্রিমিয়ারে দেখে অবাক হয়েছিলাম, এতটা ভালো হয়েছে। কাজটি দর্শকও খুব পছন্দ করেছে। সবাই ইতিবাচক প্রশংসা করছেন।
এআই নেতিবাচক ব্যবহার না করে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায় তার প্রমাণ ‘গ্যাপ’। এআই নাম শুনলেই আমরা সবাই ভয় পাই। এআই ব্যবহার করে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছেÑ আমরা কেন পিছিয়ে থাকব। নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ ভাই সেই চেষ্টাই করেছেন। এমন কাজ সাহসের ব্যাপার। দর্শক যেহেতু কাজটি পছন্দ করেছেন তাই বলব ‘গ্যাপ’ টিম সফল।
অভিনয়ের শুরু আমার শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। লোকনৃত্য, সাধারণ নৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্যÑ সব ক্ষেত্রেই আমি পারদর্শী। পাঁচ বছর বয়স থেকে নাচ করি। নাচই অভিনয় বোঝার চোখ দিয়েছে। তখন থেকেই অভিনয়ের প্রতি টান অনুভব করি। টিভিসি এবং ওভিসি দিয়ে আমার শুরুটা হয়েছিল। ২০২৩ সালে সাগর জাহানের ‘ভালোবাসার অলিগলি’ নাটকে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই।
কখনো অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়নি তবে, নাচের জন্য অভিনয় যতটা কানেক্ট করা যায় ততটুকু হয়েছে। নাচ এবং অভিনয় একে অপরের পরিপূরক। অভিনয় যেহেতু পেশা হিসেবে নিয়েছি তাই অভিনয়ের প্রতিটি ‘অ’ শিখতে চাই। টার্নিং পয়েন্ট ‘খুশবু’ মিষ্টির জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক স্টার হান্ট। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তার জীবন বদলে যায়।
সাজ্জাদ সুমনের আলোচিত ধারাবাহিক ‘খুশবু’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। এরপর থেকে তার কাজ ও পরিচিতি বাড়তে থাকে। তিনি জানান, ধারাবাহিকটি করার পর থেকে তাকে সবাই খুশবু বলে ডাকে। এই ধারাবাহিকের জন্য দেশব্যাপী পরিচিত পেয়েছেন তিনি। ব্যস্ততা মাসে ১০ দিন ‘খুশবু’ ধারাবাহিকের শুটিং থাকে।
এর পাশাপাশি একক নাটক, টিভিসি এবং ওভিসি করছি। তবে আমি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট না। বর্তমানে চাচ্ছি নিজেকে সময় দিয়ে আরও ভালো করে তৈরি করতে। নিজেকে তৈরি করে আরও বড় প্রজেক্টে মেলে ধরতে চাই। এই মুহূর্তে ওটিটিতে কাজ করার ভীষণ ইচ্ছা। কাজের অনেক প্রস্তাব পাচ্ছি তবে, এখন বুঝেশুনে পা ফেলতে চাই। যেনতেন কাজ করতে চাই না। চ্যালেঞ্জ শুরু থেকেই ‘খুশবু’ নিয়ে অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি।
এখন পর্যন্ত এই ধারাবাহিকের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে। মানুষ অনেক বেশি অস্থির। সহজে একটা জিনিস বেশি দিন কন্টিনিউ করতে চায় না। সেই জায়গা থেকে একটু চ্যালেঞ্জ থেকে যায়। তবে দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখেই নাটকটি এগিয়ে যাচ্ছে। বড় পর্দা সিনেমা কে না করতে চায়? বড় পর্দায় অবশ্যই আসতে চাই। তবে নিজেকে আরও তৈরি করতে চাই। নিজেকে পূরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করে সিনেমায় কাজ করব।
বাণিজ্যিক ও অফ ট্র্যাকের সব ধরনের গল্পে আমি কাজ করতে আগ্রহী।
The post ওটিটিতে কাজ করার প্রবল ইচ্ছার কথা জানালেন মিষ্টি appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.
Source - bangladeshdiplomat.com ↗