Bangladesh · 2026-11-07 18:22:28

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে শক্ত অবস্থানে নিয়েছিল: টুকু

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে শক্ত অবস্থানে নিয়েছিল: টুকু
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে শক্ত অবস্থানে নিয়েছিল। ৭ নভেম্বর ঘটার অনেক কারণ ছিল। ১৫ আগষ্ট পট পরিবর্তণের পরে দেশ একটা দোদল্যুমান অবস্থায় ছিল। পরে খন্দকার মোস্তাককে কিছু জুনিয়র অফিসাররা দেশ পরিচালনা করতে দেয়। এ নিয়ে আর্মির মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব ছিল। আর্মির মধ্যে পলিটিক্স চলছিল, আওয়ামী পন্থী ছিল, বাম জাসদের বাহিনী ছিল একটি ছোট্ট ইসলামিক গ্রুপও ছিল। বাংলাদেশের আর্মির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, সবচেয়ে চৌকস ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উই রিভোল্ট বলে বিদ্রোহ করে বের হয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমরা যে সরকার পেয়েছিলাম, সেই সরকার এসে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। আইনের শাসন বলে কিছু ছিল না। সব জায়গায় ছিল স্বজনপ্রীতি। দেশের আইন শৃঙ্খলা এত অবনতি হয়েছিল, যে তখনকার নেতা যাকে বাংলাদেশের মানুষ ভালোবাসা দিয়েছিল, যার ওপর আস্থা রেখেছিল, যদিও তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় অনুপস্থিত ছিলেন তারপরও এদেশের মানুষ তার ওপর দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি বাকশাল কায়েম করলেন। মাত্র ৪টা পত্রিকা রেখে সবগুলো ব্যান্ড করে দিলেন। মানুষের মত প্রকাশ শ্বাস বন্ধ করে দেওয়ার অবস্থার সৃষ্টি হয় তখনই কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটে। যেমনটা ঘটেছিল ২৪শে-ঠিক একই অবস্থা শেখ হাসিনার আমলে হয়েছিল, যার ফলে বিস্ফোরণটা হয়েছিল।

জ্বালানিমন্ত্রী টুকু বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এই সাড়ে তিন বছরে তিনি ভিত গড়ে দিয়েছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করতেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল জিয়াউর রহমান সাহেবের গড়া। মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে ফ্যাসিষ্ট সরকার নাতিপুতিকে চাকরি দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পয়সা দিলে সম্মান হয় না, ভাতা দিলেই সম্মান হয় না। সম্মান হয় মুক্তিযোদ্ধার ভুমিকাকে রিকগনাইজেশন করা। এখন আর ছেলেপেলেরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাত্তা দেয় না। এ কারণেই আর্মি ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ বলে সিপাহী হত্যা দিবস-ওদের জন্যই তো সিপাহী হত্যা হয়েছে। ওরা যেভাবে মানুষকে হত্যা করেছিল, ৪০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী হত্যা করেছিল। এই সিপাহীরা যেদিন বিদ্রোহ না করতো, জনগণকে সাথে করে জিয়াউর রহমানকে বন্দী অবস্থা থেকে বের করে না আনতো-তাহলে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থা অন্যরকম হতো। মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন মানুষের কাছে আইডল-তার অনেকগুলো কারণ আছে। জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যান্ত সাহসী। সাহসী ছিলেন বলেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রিভোল্ট করে ছোট্ট সেনা টিম নিয়ে চট্টগ্রামে ক্যান্টমেন্ট থেকে বের হতে পেরেছিলেন। তাঁর সাহসের আরও প্রমাণ আছে।

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো, সাইফুল ইসলাম শাহীন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহীদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ও মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল প্রমূখ।

Source - www.bd24live.com ↗