দেশের প্রতিটি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেছেন, কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণেরা ভালো কোনো প্রকল্প নিয়ে এলে সরকার ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা করবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) কুমিল্লা পুলিশ লাইন কনভেনশন হলে কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উৎসব ‘উড়ান-৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউট পাঁচ বছর ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে। এখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ফিন্যান্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা তরুণেরা আগামী দিনে দেশ পরিচালনা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
কৃষি ও আইটি খাতে আধুনিকায়নে গুরুত্ব, তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা

বর্তমান সময়কে আধুনিকতার যুগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড এবং তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর তাঁকে ব্যথিত করে। তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাঁর ভাষ্য, ৯৮ শতাংশ মানুষ ভালো, আর খারাপ মানুষের সংখ্যা ২ শতাংশের বেশি নয়। তবে ভালো মানুষের কাজ ও অবদান সামনে না আসায় সমাজে তাঁদের উপস্থিতি অনেক সময় যথাযথভাবে দৃশ্যমান হয় না।
কৃষি খাতের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের আধুনিক করে গড়ে তোলার কাজ করছে। একজন কৃষক যাতে তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সরকারের কাছে উৎপাদন এবং বাজারের প্রকৃত চাহিদার পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কৃষিতে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ে পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাজার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পেঁয়াজের দাম কমলেও কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানির পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিপণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশটি তাঁদের সবার। তরুণদের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কেউ ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প নিয়ে এলে সরকার ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা করবে। শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবেন। তাই গ্রাম কিংবা শহর—যেখানেই তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করুন না কেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কৃষি খাতকেও তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও আধুনিক করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হোসেন মিয়া, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী আক্কাস, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জলিল, আইসিটি আইএসসি-এর সিইও বরেন্দ্র অধিকারী এবং জেলা আইসিটি কর্মকর্তা বসির আহমেদসহ অনেকে।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইসিটি ইনস্টিটিউটের সিও হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা জয়ব্রত ঘোষ।
Source - www.bd24live.com ↗