Bangladesh · 2026-11-07 19:03:35

হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬ ও ৭/০। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৮৬।কল্পনারও তো একটা সীমা থাকে! সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের সবার মনেই বোধ হয় এই বিস্ময়। আজ সকালে বাংলাদেশ যেভাবে দিন শুরু করেছিল অথবা দিনের প্রথম সেশন যে রকম কেটেছে, তাতে এমন একটা শেষের স্বপ্ন তো বাংলাদেশ দলেরও দেখার কথা নয়!
কিন্তু তাওহিদ হৃদয় বোধ হয় একটু অন্যভাবেই ভেবেছিলেন। অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলার বিশ্বাস মনে না থাকলে তো এমন গল্পই লেখা হতো না তাঁর। হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে ভর করেই তো ২৩ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে যখন ব্যাটিংয়ে আসেন, তখন তাঁর রান ২৯। তাঁদের ৩৭ রানের জুটিতে একটু একটু আশা দেখছে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ। সেই আশা ভেঙে যেতে অবশ্য আধা ঘণ্টাও লাগেনি।
শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক আউট। এক ওভার পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটান লিটন দাসও। ওয়ারিক্যানের প্রায় নিরীহ দুটি বলে দুজনের এভাবে ক্যাচ তুলে দেওয়াটা হতাশাজনকই। সেটি আরও বাড়ে মেহেদী হাসান মিরাজ প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিলে। উইকেটের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে এসব দেখে হৃদয় হয়তো ভাবছিলেন—এরপর কী? উত্তরটা পরের প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় খুঁজে নিয়েছেন তিনি নিজেই।
অষ্টম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়৭ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে হাসান মাহমুদ যখন আউট হয়ে যান, তখনো লিড নিতে বাংলাদেশের দরকার ১৭২ রান। কেউ যদি তখন দাবি করতেন, এই রান তো বাংলাদেশ পেরোবেই, প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিডও নেবে; তাকে বোকা ভাবা লোকের সংখ্যাই বেশি থাকত নিশ্চিতভাবে।
তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটিয়ে ফেলেছেন হৃদয়। ডিফেন্স তিনি করেছেন সবটুকু মনোযোগ দিয়ে, বাউন্ডারি এনেছেন নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে। সিলেটের দর্শকেরা করতালি দিয়েছেন, ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা দাঁড়িয়ে দিয়েছেন অভিবাদন, ইবাদত হোসেন তো মাঝপথে জানিয়ে ফেলেছেন কুর্নিশও।
হৃদয়জুড়ানো ডাবল সেঞ্চুরিআর হৃদয়? শুধু নিজের কাজটাই করে গেছেন পরিস্থিতির দাবি মেনে। হৃদয়ের ইনিংসটা সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলে গেল, তা বুঝতে এই সংখ্যাগুলোই সাহায্য করতে পারে—প্রথম ৫০ রান করতে তাঁর লেগেছিল ১০৯ বল আর ১৭৮ মিনিট, সেঞ্চুরি অবধি যেতে আরও ৬২ বল আর ৮০ মিনিট, দেড় শতে যেতে ৬৪ বল আর ৬৭ মিনিট এবং ডাবল সেঞ্চুরি অবধি যেতে ৬৯ বল আর ৯০ মিনিট।
শুধু তো নিজের ব্যাটিং নয়, শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে তিনি যেভাবে আগলে রেখেছেন, বলের পর বল ডিফেন্ড করে করে প্রতিপক্ষের হতাশা বাড়িয়েছেন, প্রয়োজনের সময়ে চার–ছক্কা হাঁকাতেও দ্বিধা করেননি; তা সাহস ছড়িয়ে দিয়েছে ড্রেসিংরুমেও।
একের পর এক মাইলফলক পেরিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও গড়েছেন হৃদয়এসব ছোট ছোট ঘটনাই এমন এক গল্প লিখে ফেলেছে—যা নিয়ে চর্চা হবে অনেক দিন। তাইজুলের সঙ্গে হৃদয়ের ১১৭ আর তাসকিনের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে লিডও এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২৪২ রানে অপরাজিত থেকেছেন হৃদয়।
শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভারে ৭ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, এই অল্প সময়ের মধ্যে তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ নষ্ট হয়েছে।
তবে রিভিউ হারানোর আফসোস নয়, হৃদয়ের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধই মনে রাখাবে সিলেট টেস্টের আজকের দিনটাকে। তাঁর দুর্দান্ত এই ইনিংসই যে টেস্টের তৃতীয় দিনটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু দিনের শুরুতে কে ভেবেছিল তা!
হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে যত কীর্তি

Source - www.prothomalo.com ↗