Bangladesh · 2026-11-07 20:04:16

আবদুল আল-সাইয়েদ চালু করলেন ‘হাবিবি’ রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি

আবদুল আল-সাইয়েদ চালু করলেন ‘হাবিবি’ রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘হাবিবি পিএসি’ নামের একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গঠন করেছেন আবদুল আল-সাইয়েদ।
রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি হলো এমন সংগঠন, যা নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে (এফইসি) জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, আবদুল আল-সাইয়েদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাবিবি পিএসি’ নামের একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি নিবন্ধিত হয়েছে। এ ধরনের কমিটি কোনো রাজনীতিকের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচার কমিটি থেকে আলাদা।
আরবি শব্দ ‘হাবিবি’র অর্থ প্রিয় বা ভালোবাসার মানুষ। নির্বাচনী প্রচারের সময় শব্দটি প্রায়ই ব্যবহার করতেন আল-সাইয়েদ। ডেট্রয়েটে বিজয়ী ভাষণেও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উদ্দেশে বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী তোমাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’
গত মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি নিবন্ধন করেছেন। এফইসির নথি অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার নবনির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য আমিশ শাহ, আইওয়ার নবনির্বাচিত সিনেটর জশ তুরেক এবং নর্থ ক্যারোলাইনার নবনির্বাচিত সিনেটর রয় কুপার।
রাজনৈতিক অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিকেরা সহকর্মীদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে এ ধরনের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ব্যবহার করেন। অন্য আইনপ্রণেতা, নিজ দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটিকে অনুদান দিয়ে তাঁরা দলীয় নেতৃত্ব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার পথ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ ধরনের কমিটিগুলো প্রার্থীদের মোট ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল। এর বেশির ভাগই পেয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। তবে এককভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছিল একটি ডেমোক্র্যাট পিএসি।
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের আবদুল আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁর দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁরা তাঁকে ‘জিহাদি’ বলেছিলেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন।
নির্বাচনের কয়েক দিন আগে আল-সাইয়েদ বলেছিলেন, করদাতাদের অর্থ বিদেশি সরকারগুলোর পেছনে ব্যয় না করে দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে খরচ করা উচিত। তাঁর ভাষায়, জাতিগত নিধন বা বর্ণবাদী ব্যবস্থা চালানো বিদেশি সরকারগুলোকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
আল-সাইয়েদ আরও বলেছিলেন, শুধু ট্রাম্পকে পরাজিত করলেই চলবে না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ট্রাম্পের মতো নেতাকে তৈরি করেছে, সেটিও বদলাতে হবে।

Source - www.prothomalo.com ↗