Bangladesh · 2026-11-07 23:00:00

মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নিলো ইরান

মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নিলো ইরান
নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটারে সীমিত রাখার স্বঘোষিত বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি দেশটি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আগের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।’ শুধু বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে বাস্তবে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো ধরনের হামলা হলে ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়াই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিন পর এ ঘোষণা এল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

Associated Press (এপি) জানিয়েছে, ইরানের স্বঘোষিত ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সীমা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ত অঞ্চল এবং মিসরের অধিকাংশ এলাকাকে রেখেছে। এই সীমা তুলে নেওয়ার অর্থ ভবিষ্যতে আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে তেহরান।

তবে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা মানেই ইরান ইতিমধ্যে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, এমন নয়। এপি বলছে, ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে—এমন তথ্য এখনো জানা যায়নি। নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কত হবে, সে বিষয়েও মোহেব্বি কিছু জানাননি।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। ইরান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। তবে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। এ ঘটনায় ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দূরের মহাদেশেও আঘাত হানতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে দীর্ঘদিনের স্বঘোষিত সীমা তুলে নেওয়ার ঘোষণা ইরানের সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দেশটির নতুন সক্ষমতার প্রকৃত পরিসর বোঝা যাবে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও পরীক্ষার মাধ্যমে।

Source - www.bd24live.com ↗