শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খলচান্দা কোচপাড়া গ্রামের ৫৫টি পরিবারের তিন শতাধিক সদস্য চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। কর্মসংস্থানের অভাব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আদিবাসী এই পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় গৃহিণী পাপড়ি কোচ জানান, তাদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল শ্রম বিক্রি ও বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহ। কিন্তু সামাজিক বনায়নের কারণে বনে এখন আর লাকড়ি পাওয়া যায় না। এছাড়া পাহাড়ের ঢালে চাষ করা ধানও বন্যহাতির উপদ্রবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় তাদের চাল-ডালসহ নিত্যপণ্য কিনে খেতে হয়।
গ্রামের বাসিন্দা রঘুনাথ কোচ, পর্বেশরী কোচ ও সীতারাণী কোচ জানান, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি শ্রমিক। বছরে বোরো ও আমন ধান রোপণ ও কাটার মৌসুমে মাত্র দেড় মাস কাজ পাওয়া যায়। বছরের বাকি সময় তাদের অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। সরকারি সহায়তার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র বয়স্ক ভাতার কার্ডের সুবিধা পান।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোচ আদিবাসীরা

ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের ঢালে ও চেল্লাখালী নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামটিতে যাতায়াতের রাস্তা এখনো কাঁচা। গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের ২ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বর্ষা মৌসুমে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তারা অবহেলিত থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা কেবল নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে আসেন এবং নানা প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ তাদের খোঁজ নেন না। বর্তমানে নাকুগাঁও স্থলবন্দরেও কাজের সুযোগ না থাকায় অভাব আরও প্রকট হয়েছে। গ্রামবাসী এখন অবহেলিত এই জনপদের রাস্তাঘাট পাকাকরণসহ সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
Source - www.bd24live.com ↗