Bangladesh · 2026-11-08 09:45:21

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের কমিটি

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের কমিটি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডের ক্রম, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে তৈরি হওয়া অসংগতি দূর করতে ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। কর্মচারীদের বিভিন্ন অভিযোগ পর্যালোচনা করে বেতন গ্রেড পুনর্বিন্যাস, নতুন ঝুঁকি ভাতা চালু এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের সুপারিশ করবে এই কমিটি।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড–ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন–পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি’। গত ২ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ পর্যালোচনা করে সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিটি। কোনো কোনো পদের বেতন গ্রেড বাড়ানো বা কমানো, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং নতুন ভাতা চালুর বিষয়েও মতামত দেবে তারা।

কমিটির কার্যক্রমে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং জনপ্রশাসনসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন।

কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ। প্রয়োজনে কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কেও প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ নেই। ফলে বেতনকাঠামোর অসংগতি নিরসনে সরকারি কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন পদ ও পেশার কর্মীদের বেতন গ্রেড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও কোনো কোনো পদে বেতন গ্রেডের পার্থক্য, পদমর্যাদার সঙ্গে গ্রেডের অসামঞ্জস্য এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের পর এসব অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ নিয়ে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা আপত্তি জানিয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণে অসংগতির বিষয় তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন তারা।

আবেদনগুলোতে কয়েকটি নির্দিষ্ট অসংগতির উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিষয়টি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রারম্ভিক মূল বেতনের হিসাবে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও আগের বেতন সমন্বয়ের পর হিসাবের চিত্র পাল্টে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা।

Source - www.bd24live.com ↗