Bangladesh · 2026-11-08 12:07:10

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গের ২০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ তাঁর মেয়েরা পাবে না কেন

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গের ২০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ তাঁর মেয়েরা পাবে না কেন
ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তবে তাঁর তিন মেয়ে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগ উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে না। জীবদ্দশায় ফেসবুকের ৯৯ শতাংশ শেয়ার জনকল্যাণমূলক কাজে খরচের অঙ্গীকার করেছেন মার্ক জাকারবার্গ।
২০১৫ সালে মার্ক জাকারবার্গ এই সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুসারে, তাঁর সম্পদের বড় অংশ সন্তানদের দেওয়ার পরিবর্তে জনকল্যাণে খরচ করা হবে।
মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান দম্পতির তিন মেয়ে হলো ম্যাক্সিমা, অগাস্ট ও অরেলিয়া। প্রথম সন্তানের জন্মের পরই নিজেদের সম্পদের বড় অংশ দাতব্য কাজে খরচের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন এই দম্পতি। তখন জাকারবার্গের সম্পদ ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ফরচুন ম্যাগাজিনের সূত্রে এই খবর দিয়েছে সেলেব ডটকম।
বড় মেয়ের জন্ম, চিঠি ও উদ্যোগ
২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম মেয়ে ম্যাক্সিমার জন্মের পর তাকে উদ্দেশ করে খোলাচিঠি লেখেন জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান। চিঠিতে তাঁরা লিখেছিলেন, ‘সব মা-বাবার মতো আমরাও চাই, তুমি আজকের চেয়ে ভালো পৃথিবীতে বড় হও।’
চিঠিতে তাঁরা আরও জানান, মানুষের সম্ভাবনার বিকাশ ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেদের সম্পদের বড় অংশ বিনিয়োগ করতে চান। তাঁদের বিশ্বাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাঁরা দুজনে প্রতিষ্ঠা করেন চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই)। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়নের পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী চ্যানের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের বিশ্বের শীর্ষ ধনী দাতাদের কাতারে নিয়ে এসেছে। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট ও মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো ধনীরাও তাঁদের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে খরচের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য হলো, বিপুল সম্পদ শুধু পরবর্তী প্রজন্মের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে তা যেন বৃহত্তর সমাজের কাজে লাগে।
এই দম্পতির মতে, সমাজের বিনিয়োগ শুধু বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতে যারা পৃথিবীতে আসবে, তাদের জীবনমান উন্নয়নেও এখন থেকেই বিনিয়োগ করতে হবে।
প্রচলিত ব্যক্তিমালিকানাধীন দাতব্য ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে সিজেডআই সীমিত পরিসরে কোম্পানির মতো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দাতব্য কাজে সহায়তার পাশাপাশি ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং নীতিনির্ধারণী উদ্যোগেও অর্থায়ন করতে পারে তারা।
প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে সিজেডআইয়ের কার্যক্রমে আবাসন খরচ কমানো, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সংস্থাটির অগ্রাধিকার বদলেছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা ও রোগ নিরাময়ের উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
তবে সম্পদের ৯৯ শতাংশ দাতব্য কাজে খরচের অঙ্গীকারের অর্থ এই নয় যে জাকারবার্গ নিজের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিচ্ছেন। মেটায় এখনো তাঁর প্রায় ১৩ শতাংশ শেয়ার আছে। এই শেয়ার থাকার কারণে কোম্পানিটিতে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাধিকার আছে। এ ছাড়া তাঁর আছে বিপুল পরিমাণ আবাসন সম্পদ।
সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের পরিকল্পনা হলো, বিপুল সম্পদের অধিকাংশ সন্তানদের উত্তরাধিকার হিসেবে না দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা।
জাকারবার্গ ও ফেসবুকের পথচলা
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, ২০০৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুক চালু করেন মার্ক জাকারবার্গ। সহপাঠীদের নাম ও ছবি দেখে চিনতেই অনলাইন মাধ্যম হিসেবে এর যাত্রা শুরু। ২০১২ সালে ফেসবুক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভার্চ্যুয়াল জগতে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে ফেসবুকের নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত অগ্রাধিকার আবার বদলে যায়। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা।

Source - www.prothomalo.com ↗