ফুটবল কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায়, তার হিসাব বোধ হয় ফুটবলের কাছেও নেই। একদিন যিনি ছিলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবের গোলকিপার, তাঁকেই এক বিশ্বকাপ রাত বানিয়ে দিল বিশ্বতারকা। ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেড়ে গেল কয়েক ঘণ্টায় কয়েক মিলিয়ন। বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় ডাক পড়ল অ্যাডিডাস, পেপসি আর রেড বুলের। ব্যালন ডি’অরের মঞ্চেও জায়গা হলো।
নাম তাঁর ভোজিনিয়া। পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। বয়স ৪০। কেপ ভার্দের এই গোলকিপার এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে এমন এক কীর্তি গড়েছিলেন, যা তাঁকে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে দেয়। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গোল করতে দেননি। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে। এরপর শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছেন অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত হারলেও ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেয় দলটি।
বিশ্বকাপের নায়ক সেই ভোজিনিয়ার এখন সময় কাটছে ক্লাবের বেঞ্চে বসে
২ কোটি ৮৪ লাখের খ্যাতিতে ‘অসহায়’ ভোজিনিয়াআর ভোজিনিয়া? তিনি হয়ে যান বিশ্বকাপের অন্যতম অপ্রত্যাশিত নায়ক। স্পেনের বিপক্ষে আটলান্টার সেই ম্যাচের আগে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল মাত্র ৫০ হাজার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে কয়েক মিলিয়ন। এখন অনুসারী ২ কোটি ৭৫ লাখ! তুলনাটা বুঝতে একটা তথ্যই যথেষ্ট। তাঁর নিজের দেশ কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যাই পাঁচ লাখের সামান্য বেশি। অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার ৫৫ গুণেরও বেশি অনুসারী তাঁর!
ভোজিনিয়া
অবশ্য এই খ্যাতির পেছনে ছিল আবেগের গল্পও। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে কেঁদেছিলেন ভোজিনিয়া। দলের এমন সাফল্যের আনন্দে। আবার কষ্টেও। কারণ, মাকে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ দেখাতে চেয়েছিলেন গ্যালারিতে বসিয়ে। কিন্তু মায়ের ভিসা হয়নি। ছেলের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি তাই মা দেখতে পারেননি সামনে বসে।
বিশ্বকাপের পর জীবনটা আরও বদলে যায় ভোজিনিয়ার। জুলাইয়ে যোগ দেন চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল এই ক্লাব ১৯৯১ সালে জিতেছিল কোপা লিবার্তোদোরেস। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এসতাদিও মনুমেন্তালে। হাজার হাজার সমর্থকের সামনে। আতশবাজির আলোয়। যেন কোনো সিনেমার নায়ক!
এরপর বিজ্ঞাপনের দুনিয়াও তাঁকে লুফে নেয়। অ্যাডিডাস, পেপসি, রেড বুলের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের প্রচারণায় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। সম্প্রতি লন্ডনে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলেন। বর্ষসেরা গোলকিপারের পুরস্কারের ভোটে হয়েছেন ষষ্ঠ।
কিন্তু মাঠের গল্পটা এত সুন্দর নয়। গত মৌসুমেও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছেন ভোজিনিয়া। কোলো কোলোতে গিয়ে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সম্ভাব্য ১৪ ম্যাচের মাত্র পাঁচটিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। চিলির লিগে শিরোপার দৌড়ে থাকা দলটির পরের ম্যাচ নুবলেনসের বিপক্ষে আগামীকাল, যে ম্যাচেও বেঞ্চই হতে পারে তাঁর ঠিকানা। মানে বিশ্বকাপের নায়কের এখন সময় কাটছে ক্লাবের বেঞ্চে বসে!
চিলির শীর্ষ লিগের দল কোলো কোলোর একাদশে নিয়মিত জায়গা হচ্ছে না ভোজিনিয়ার।ভোজিনিয়া অবশ্য এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছিলাম লিবার্তোদোরেসে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে। তবে এখন আমার মনোযোগ এই সপ্তাহে। কোলো কোলো দলের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এরপর আমার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। এ নিয়ে এখন ভাবছি না।’
ভোজিনিয়ার চুক্তিটি ছয় মাসের। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক মিনিট খেলতে পারলে আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে। চিলির সংবাদমাধ্যমে তাই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৭ সালেও কোলো কোলোতে থাকবেন কি না ভোজিনিয়া?
ভোজিনিয়ার জন্য নিয়ম বদল, ব্যবহার করতে পারবেন ডাকনামযে ৫টি ম্যাচ খেলেছেন ভোজিনিয়া, সেখানে ৩টি গোল হজম করেছে দল। পরিসংখ্যান হিসেবে খারাপ নয়। কিন্তু কোলো কোলো ক্লাবের এখনো প্রথম পছন্দ তাদের ১৯ বছর বয়সী চিলিয়ান গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরা। ভোজিনিয়াকে বরং সমালোচনাই শুনতে হচ্ছে বেশি।
ভোজিনিয়াবার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক গোলকিপার এবং চিলির কিংবদন্তি ক্লদিও ব্রাভো তাঁর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্রাভোর ভাষায়, ‘দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন, এমন পরিস্থিতিতে সে বেশ কয়েকটি ভুল করেছে। আর সমন্বয় না থাকলে কখনোই আপনি ভালো করতে পারবেন না।’
তার মানে ভোজিনিয়ার ভবিষ্যৎ আসলে এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। কোলো কোলো যদি তাঁর চুক্তি না বাড়ায়, তাহলে ডিসেম্বরের শেষেই হয়তো নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে ভোজিনিয়াকে। কী আছে তাঁর কপালে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
ভোজিনিয়া
অবশ্য এই খ্যাতির পেছনে ছিল আবেগের গল্পও। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে কেঁদেছিলেন ভোজিনিয়া। দলের এমন সাফল্যের আনন্দে। আবার কষ্টেও। কারণ, মাকে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ দেখাতে চেয়েছিলেন গ্যালারিতে বসিয়ে। কিন্তু মায়ের ভিসা হয়নি। ছেলের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি তাই মা দেখতে পারেননি সামনে বসে।
বিশ্বকাপের পর জীবনটা আরও বদলে যায় ভোজিনিয়ার। জুলাইয়ে যোগ দেন চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল এই ক্লাব ১৯৯১ সালে জিতেছিল কোপা লিবার্তোদোরেস। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এসতাদিও মনুমেন্তালে। হাজার হাজার সমর্থকের সামনে। আতশবাজির আলোয়। যেন কোনো সিনেমার নায়ক!
এরপর বিজ্ঞাপনের দুনিয়াও তাঁকে লুফে নেয়। অ্যাডিডাস, পেপসি, রেড বুলের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের প্রচারণায় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। সম্প্রতি লন্ডনে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলেন। বর্ষসেরা গোলকিপারের পুরস্কারের ভোটে হয়েছেন ষষ্ঠ।
কিন্তু মাঠের গল্পটা এত সুন্দর নয়। গত মৌসুমেও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছেন ভোজিনিয়া। কোলো কোলোতে গিয়ে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সম্ভাব্য ১৪ ম্যাচের মাত্র পাঁচটিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। চিলির লিগে শিরোপার দৌড়ে থাকা দলটির পরের ম্যাচ নুবলেনসের বিপক্ষে আগামীকাল, যে ম্যাচেও বেঞ্চই হতে পারে তাঁর ঠিকানা। মানে বিশ্বকাপের নায়কের এখন সময় কাটছে ক্লাবের বেঞ্চে বসে!
চিলির শীর্ষ লিগের দল কোলো কোলোর একাদশে নিয়মিত জায়গা হচ্ছে না ভোজিনিয়ার।ভোজিনিয়া অবশ্য এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছিলাম লিবার্তোদোরেসে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে। তবে এখন আমার মনোযোগ এই সপ্তাহে। কোলো কোলো দলের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এরপর আমার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। এ নিয়ে এখন ভাবছি না।’
ভোজিনিয়ার চুক্তিটি ছয় মাসের। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক মিনিট খেলতে পারলে আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে। চিলির সংবাদমাধ্যমে তাই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৭ সালেও কোলো কোলোতে থাকবেন কি না ভোজিনিয়া?
ভোজিনিয়ার জন্য নিয়ম বদল, ব্যবহার করতে পারবেন ডাকনামযে ৫টি ম্যাচ খেলেছেন ভোজিনিয়া, সেখানে ৩টি গোল হজম করেছে দল। পরিসংখ্যান হিসেবে খারাপ নয়। কিন্তু কোলো কোলো ক্লাবের এখনো প্রথম পছন্দ তাদের ১৯ বছর বয়সী চিলিয়ান গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরা। ভোজিনিয়াকে বরং সমালোচনাই শুনতে হচ্ছে বেশি।
ভোজিনিয়াবার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক গোলকিপার এবং চিলির কিংবদন্তি ক্লদিও ব্রাভো তাঁর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্রাভোর ভাষায়, ‘দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন, এমন পরিস্থিতিতে সে বেশ কয়েকটি ভুল করেছে। আর সমন্বয় না থাকলে কখনোই আপনি ভালো করতে পারবেন না।’
তার মানে ভোজিনিয়ার ভবিষ্যৎ আসলে এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। কোলো কোলো যদি তাঁর চুক্তি না বাড়ায়, তাহলে ডিসেম্বরের শেষেই হয়তো নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে ভোজিনিয়াকে। কী আছে তাঁর কপালে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
Source - www.prothomalo.com ↗