হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিতে রাজি হননি ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দল রা’আমের প্রধান মানসুর আব্বাস। এ বিষয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি ‘সেতু’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে নির্বাচনের পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন আব্বাস। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট।
বৈঠকে আব্বাস নতুন সরকার গঠনের জন্য ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটের নাম সুপারিশ করেন। তবে আইজেনকট তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী দলগুলোর জন্য হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত দিয়েছেন।
হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলবে না ইসরায়েলের আরব নেতা আব্বাস

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট হারজোগ আব্বাসের কাছে জানতে চান, তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করেন কি না।
জবাবে আব্বাস বলেন, তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সহিংসতার বিরোধিতা করে আসছে। তবে বারবার তাঁদের এ ধরনের ‘আনুগত্যের পরীক্ষার’ মুখোমুখি করা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। এ ক্ষেত্রে হামাসসহ সব সামরিক ও সশস্ত্র সংগঠনকে নিরস্ত্র করতে হবে।
বৈঠকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাপরিচালক আইয়াল শভিকি আব্বাসকে প্রশ্ন করেন, সংশয়বাদীদের আশ্বস্ত করতে তিনি কেন সরাসরি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে পারছেন না।
জবাবে আব্বাস বলেন, ‘আমার কাছে দ্ব্যর্থহীন উত্তর রয়েছে। কিন্তু আমাকে একটি সেতু হিসেবে থাকার সুযোগ দিন, যাতে অন্য পক্ষকেও প্রভাবিত করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সেতু। সেই সেতু ধ্বংস করবেন না। আমাদের সন্ত্রাসের সমর্থক কিংবা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবেন না।’
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে আব্বাস বলেন, ‘নিজেকে এবং আমার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্যও আমাকে কিছুটা জায়গা দিন।’ বিষয়টিকে তিনি ‘জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আরব দলগুলো
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নেসেট নির্বাচনে আব্বাসের দল রা’আম আটটি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। নির্বাচনে আরব ভোটারদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণের ফলে সরকার গঠনে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছে।
জয়েন্ট লিস্ট তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী অবস্থানের দল। দলটি আইজেনকটকে সমর্থনের সুপারিশ করলেও তাঁর সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার আগ্রহ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গঠিত কোনো সরকারকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে রা’আম আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে সরাসরি অংশ নিতে আগ্রহী। দলটি নির্বাচনে সাবেক জিওনিস্ট আইনপ্রণেতা ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎসকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখে নির্বাচনে অংশ নেয়। ঐতিহাসিকভাবে ইসলামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত রা’আম ২০২১-২২ সালেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখা ‘চেঞ্জ গভর্নমেন্ট’-এর অংশ ছিল।
আরব দলগুলোকে নিয়ে নেতানিয়াহুর অভিযোগ
নির্বাচনে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো নেতানিয়াহু এবং তাঁর সমর্থকেরা আরব দল দুটিকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক ও সরকারে অংশগ্রহণের অযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
৪ নভেম্বর দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী ইসলামপন্থী দলগুলো ইসরায়েলের অভ্যন্তর থেকেই দেশটির জন্য হুমকি তৈরি করছে। এসব দলের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার ইসরায়েলকে বিপদের মুখে ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর দাবি, উগ্র ইসলাম ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ইসরায়েলের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের দলগুলো ইসরায়েলের ইহুদি পরিচয় মুছে ফেলতে চায় এবং দেশটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা দুর্বল করতে চায়।
তিনি নিজের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে ইসরায়েলের বিরোধী জোটের জিওনিস্ট নেতারা নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
Source - www.bd24live.com ↗