Bangladesh · 2026-11-08 17:40:51

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘদিন আগে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন করে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে ।

রোববার (৮ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এসময় তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিহাব উদ্দিন খান।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে কর্ণফুলী নদী রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সেসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

একই সঙ্গে জরিপ প্রতিবেদন তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন আদালত।

তবে আদালতের সেই নির্দেশনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

এদিকে নদী দখল ও দূষণ অব্যাহত থাকায় পরিবেশ এবং চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেন রিটকারী সংগঠনের আইনজীবী।

এ অবস্থায় আদালতের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও জরিপ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।

রোববার শুনানিতে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। ফলে নদী দখল ও দূষণ অব্যাহত রয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর।

শুনানি শেষে আদালত কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ সম্পন্ন করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় এইচআরপিবির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী।

বিবাদী করা হয়েছে পরিকল্পনা, নৌপরিবহন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ১৯ জনকে।

আদালতের নতুন নির্দেশনার ফলে কর্ণফুলীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাড়ের সীমানা জরিপ এবং অবৈধ দখলদারদের শনাক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আবারও সামনে এল।

Source - www.bd24live.com ↗