Bangladesh · 2026-11-08 17:40:55

নকলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া নিয়োগ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বছর পর শিক্ষিকার যোগদান

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় নয় বছর পর ২০২৪ সালে এক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে যোগদান করানোর অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন নয়, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই নিয়োগ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলেয়া খাতুন নামের এক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে যোগদান করানো হয়। ওই নিয়োগের পক্ষে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল শনিবার দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার চতুর্থ পাতায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে ওই দিনের পত্রিকায় এ ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সভায় আলেয়া খাতুনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ওই সময়ে এ ধরনের কোনো নিয়োগের ঘটনা ঘটেনি।

তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের কোনো নিয়োগ হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুনকেও তিনি চেনেন না। তৎকালীন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাবেদ আলী ও মো. স্বপন খানও একই অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

অভিভাবক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদও নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নথিতে তাঁর স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই তাঁর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে বিদ্যালয়টিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের একটি কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনাও জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান জানান, ২০২৪ সালে স্থানীয়ভাবে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়োগের বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

The post নকলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া নিয়োগ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বছর পর শিক্ষিকার যোগদান appeared first on Bangladesh Diplomat | বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাট.

Source - bangladeshdiplomat.com ↗