প্রচলতি ধারণা হচ্ছে, কেবল বড়রাই টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শিশুরা সাধারণত টাইপ–১ ডায়াবেটিসে ভোগে এবং এর হার খুবই কম। কিন্তু বর্তমানে শিশু–কিশোরদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। কেন?
১. স্থূলতা: সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট বা অভ্যন্তরীণ চর্বি জমা হওয়া ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ হলো এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।
২. নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ও স্ক্রিন টাইম: এই সময়ে শিশু–কিশোরদের শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলার প্রবণতা কমে গেছে এবং মূলত দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের (মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভি) সামনে কাটানোর মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা শরীরের স্বাভাবিক মাত্রায় গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়।
শিশুরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে কেন

৩. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, পরিশোধিত শর্করা এবং চিনি বা কর্ন-সিরাপ যুক্ত মিষ্টি পানীয়ের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অতিরিক্ত ওজন ও অগ্ন্যাশয়ের ওপর বিপাকীয় চাপ সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখে।
৪. বয়ঃসন্ধি ও হরমোনগত পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। যখন এর সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন বা অন্যান্য ঝুঁকি যুক্ত হয়, তখন টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্নে যা করতে হবে৫. জেনেটিকস ও পারিবারিক ইতিহাস: টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু–কিশোরদের একটি বড় অংশেরই মা-বাবার বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে। এ ছাড়া মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি।
৬. আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত বৈষম্য: কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগের অসম অনুপাতে উচ্চ হার দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণের সুযোগ-সুবিধা ও জ্ঞানের অভাব, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং নিরাপদ বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সুযোগের অভাবের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।
আশার কথা হলো, শিশুদের টাইপ–১ ডায়াবেটিস অতটা প্রতিরোধযোগ্য না হলেও শিশু-কিশোরদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ঠেকানো সম্ভব। শিশু–কিশোরদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক জ্ঞান এই ঝুঁকি কমাতে পারে।
লেখক: শিশু হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
শিশুর দাঁতের যত্নে যা করা দরকার
৪. বয়ঃসন্ধি ও হরমোনগত পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। যখন এর সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন বা অন্যান্য ঝুঁকি যুক্ত হয়, তখন টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্নে যা করতে হবে৫. জেনেটিকস ও পারিবারিক ইতিহাস: টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু–কিশোরদের একটি বড় অংশেরই মা-বাবার বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে। এ ছাড়া মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি।
৬. আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত বৈষম্য: কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগের অসম অনুপাতে উচ্চ হার দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণের সুযোগ-সুবিধা ও জ্ঞানের অভাব, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং নিরাপদ বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সুযোগের অভাবের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।
আশার কথা হলো, শিশুদের টাইপ–১ ডায়াবেটিস অতটা প্রতিরোধযোগ্য না হলেও শিশু-কিশোরদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ঠেকানো সম্ভব। শিশু–কিশোরদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক জ্ঞান এই ঝুঁকি কমাতে পারে।
লেখক: শিশু হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
শিশুর দাঁতের যত্নে যা করা দরকার
Source - www.prothomalo.com ↗