Bangladesh · 2026-11-08 18:15:32

অস্ত্রধারী যুবককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ, দায় নিতে চায় না বিএনপির কোনো পক্ষ

অস্ত্রধারী যুবককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ, দায় নিতে চায় না বিএনপির কোনো পক্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করা যুবককে শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। অস্ত্রধারী ওই যুবক প্রতিপক্ষের লোক বলেও দাবি করছে উভয় পক্ষ।
গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে পৃথক কর্মসূচি থেকে কসবা উপজেলা সদরের বিজনা সেতু এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হলুদ শার্ট ও কালো হেলমেটধারী এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দিতে দেখা যায়। তাঁর আশপাশের লোকজনের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা। প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতেও লাঠিসোঁটা দেখা যায়।
শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। আজ রোববার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপির নেতৃত্ব দুই ভাগে বিভক্ত। দুই পক্ষই পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। একটি পক্ষ সংসদ সদস্য (এমপি) মুশফিকুর রহমানের অনুসারী। এই পক্ষে আছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, কসবা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ইকলিল আযম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলীসহ অনেকে।
অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কসবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরুদ্দিন আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হকসহ তাঁদের অনুসারীরা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কবির আহমেদ ভূঁইয়া প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে মুশফিকুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী করে বিএনপি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদের অনুসারীরা শনিবার বিকেলে শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। অপর দিকে গত বুধবারের একটি ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশের ডাক দেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা। কবির আহমেদের অনুসারীদের শোভাযাত্রা-পূর্ব আলোচনা সভার সময় সংসদ সদস্যের অনুসারীরা কদমতলী এলাকায় এলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় কয়েকজনের হাতে ছিল রামদা ও ছুরিপরস্পরকে দোষারোপ
জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস ও কসবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের দাবি, সংঘর্ষের সময় কদমতলী এলাকায় কবির আহমেদের অনুসারীরা অবস্থান করছিলেন। পিস্তল প্রদর্শনকারী ওই যুবক উপজেলার কুটি গ্রামের লালন রাব্বি। তিনি কসবা উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি সিরাজুল হক ওরফে ইমুর ছোট ভাই। এ ছাড়া সংঘর্ষে কসবা কাইয়ুমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বাদশা জুয়েলের ছোট ভাই মো. ফাহাদও অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কবির আহমেদের অনুসারী কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে আজ রোববার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপনের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের কিছুই জানাননি। তাই এক দিন এগিয়ে এনে শনিবার আমার অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। সংসদ সদস্যের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। সংসদ সদস্য সব করাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয় কিছু করলেই হামলা চালানো হয়। পৌর এলাকায় কিছু্ই করতে পারি না। রাজু, মেহেদী, শাহিনুর ও সাদ্দাম সংসদ সদস্যের অনুসারী। তারা গতকাল (শনিবার) বোমা হামলাসহ গুলি করেছে।’
শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দিতে আসেনি বলে জানান কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ। আজ রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সংঘর্ষে যারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, তাদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
কদমতলী এলাকার সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে মাথায় কালো হেলমেট ও গায়ে হলুদ শার্ট পরা একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার বিষয়টি নজরে আনলে ওসি বলেন, ‘ভিডিও আমি পাইনি। তবে বিষয়টি শুনেছি। আমরাও তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ রোববার পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা বিএনপি। বিকেলে টিঅ্যান্ডটি এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের করেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদের অনুসারীরা উপজেলার বিনাউটি ও তিন লাখ পীর এলাকায় আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।
একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা হাতে কয়েকজন

Source - www.prothomalo.com ↗